হতাশায় শিক্ষার্থী, বিষন্ন অভিভাবক, উদ্বিগ্ন শিক্ষক

লেখকের ছবি।

জিয়াউদ্দিন লিটন : করোনা পরিস্থিতির কারণে ৯ মাসেরও অধিক সময় সরাসরি শ্রেণি পাঠদান চালিয়ে যেতে আমরা ব্যর্থ হয়েছি। তবে অনলাইন এবং টেলিভিশনে পাঠদানের মাধ্যমে আমরা সে ক্ষতি কিছুটা কমিয়ে দেবার চেষ্টা ক্রা হয়েছে এবং তাতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জীবন তুলনামূলক ঝুঁকিমুক্ত থেকেছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থী নির্যাতনের অমানবিক সংবাদে ২০২০-২০২১ সালে বারবার মর্মাহত ও হতাশাগ্রস্ত হয়েছি আমরা। বিশেষ করে শিশুশিক্ষার্থী নির্যাতনের ঘটনা ছিল সর্বাধিক সমালোচিত। চুপি চুপি সংঘটিত হয়েছে অগণিত মেয়ে শিশুর বাল্যবিয়ে। কাজে যোগ দিতে বাধ্য হয়েছে অসংখ্য ছেলে শিশু। লেখাপড়া ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছে অনেক শিক্ষার্থী। প্রায় সকল শিক্ষার্থী নিমজ্জিত হয়েছে কম-বেশি হতাশায় ও বিষণ্নতায়! এসব ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে ২০২২ সালে উত্তরণ সম্ভব হবে বলে প্রত্যাশা করি।

একটি জাতির পরিচয় হচ্ছে তার শিক্ষায়। শিক্ষা হচ্ছে জাতির উন্নয়নের মানদন্ড। মেরুদন্ড ছাড়া যেমন কোন প্রাণী সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারে না তেমনি শিক্ষা ছাড়াও কোন জাতি মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে না। কোন জাতি কতখানি অগ্রসর তা নির্ভর করে সেই জাতির শিক্ষা সংস্কৃতি ও কৃষ্টি-কালচার এর উপর। যে জাতি যত শিক্ষিত সে জাতি তত উন্নত। শিক্ষা ও জ্ঞান ছাড়া কোন জাতি বিশ্ব মানদণ্ডে উন্নত জাতি হিসেবে বিবেচিত হয় না। তাইতো প্রমথ চৌধুরী তার বই পড়া প্রবন্ধে বলেছেন, “যে জাতির জ্ঞানের ভান্ডার শুন্য সে জাতির ধনের ভাঁড়েও ভবানী” অর্থাৎ যে জাতির শিক্ষা নাই সে জাতির ধন সম্পদ নাই।

জ্ঞান ছাড়া কোন জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নতি কোনোক্রমেই সম্ভব নয়। আর এই জ্ঞান বিকশিত হয় শিক্ষার মাধ্যমে, যে শিক্ষা শুরু হয় বাল্যকাল থেকে। প্রবাদ আছে “যার জ্ঞান হয় তার সাত বছরেই হয় আর যার হয় না তার ৭০ বছরেও হয়না”। আর সেই জ্ঞান অর্জনের জন্য বাল্যকাল থেকেই শিক্ষা জরুরী। শিক্ষা বাল্যকাল থেকে শুরু না করলে তার সফলতা যে পাওয়া যায় না তার বড় প্রমাণ কোন পাঁচ-ছয় বছরের কোন ছাত্রকে হাফেজ বানানো যতটা সহজ ৩০ বছরের বয়স্ক ছেলেকে ততটাই কষ্টকর । সুতরাং বাল্যকাল শিক্ষা অর্জনের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ সময়, অথচ আমাদের সন্তানদের এই বাল্যকাল টা করোনার কারণে পুরোপুরি হতাশার মধ্যে নিমজ্জিত।

এই হতাশা কতদিনে কাটবে তা নিয়ে উদ্বিগ্ন অভিভাবক মহল। শুধু আমাদেরই নয় গোটা বিশ্বব্যাপী একই অবস্থা। সারা বিশ্বে মোট কতটি দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে এর মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ায় ভারত এবং বাংলাদেশ। আর শুধুমাত্র বাংলাদেশেই সমগ্র দেশ জুড়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। করোনা নামক মহামারীর ধ্বংস করে দিচ্ছে বিশ্বের কোটি কোটি কোমলমতি শিশুদের ভবিষ্যৎ। আর শিশুরাও পড়েছে একঘেয়েমিতায়। এই করোনা কোমলমতি শিশুদের শুধু স্কুল ছাড়াই করেনি, নষ্ট করেছে তাদের খেলাধুলার জীবন, নষ্ট করেছে তাদের আনন্দ পাওয়ার সময়।

আগে শহরের শিশুরা বিকেলবেলায় বাবা-মার সাথে পার্কে গিয়ে খেলাধুলা ও আনন্দ-ফুর্তিতে মেতে উঠতো আর এখন শিশুদের পার্কে নিয়ে গেলে তারা যেন পূর্বের মত সেভাবে আর মন রাঙিয়ে তুলতে পারে না। শিশুদের আগের সেই আনন্দ ময় সময় গুলো এখন আর দখল করে নিয়েছে নানাপ্রকার ভিডিও গেমস পাবজি গেমস ফ্রী ফায়ার টিক টক লাইকি সহ নানা রকম গেম। বিজ্ঞানের উৎকর্ষতার কারণে শহর ছেড়ে গ্রামেও ছড়িয়ে পড়েছে এই আসক্তিময় গেম।

পত্রিকায় প্রকাশ পাবজি গেম খেলতে না দেওয়ায় বিভিন্ন জায়গায় আত্মহত্যা করেছে অনেক কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রী। এ সকল খেলা বন্ধ করার জন্য সমাজের বিভিন্ন মহল থেকে ইতিমধ্যেই জোর দাবি উঠেছে অবশ্য কিছু কিছু মেধাবী শিশুর মাঝে এই গেম খেলার অবস্থাটাও ভালো লাগছেনা তারা স্কুলে যাওয়ার জন্য উদগ্রীব হয়ে পড়েছে ফেসবুক নামক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি মেয়ে তার বান্ধবীর একটি ছবি পোস্ট করেছে যে বান্ধবীর গায়ে স্কুলড্রেস আছে পিঠে স্কুল ব্যাগ অথচ সেই বান্ধবীর ভয়েস দেখানো হয়েছে প্রায় 80 বছর অর্থাৎ স্কুল যখন খুলবে তখন অনেকেই বয়স অনেক বেশি হয়ে যাবে।

যদিও এই ছবিগুলো উপমা হিসেবে পোস্ট করেছে তথাপিও এই ছবি থেকে একটি বিষয় অনুমান করা যায় তা হল কোমলমতি শিশুরা ও এই অবস্থায় আর থাকতে চাচ্ছেনা। তারা অচিরেই ফিরে যেতে চায় স্কুলে। ইতিমধ্যেই দেশের বিভিন্ন জায়গায় স্কুলের ছেলেমেয়েরা স্কুলে যাওয়ার জন্য রাস্তায় বসে প্রতীকী ক্লাস করা শুরু করে দিয়েছে সেই ক্লাসে আবার ২ এর ঘরের নামতা দুই দুগুনে ৬ বলায় শিক্ষক তাচ্ছিল্য করে বলেছে এই কদিনেই সব কিছু খেয়ে ফেলেছিস?

গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইন্সটিটিউটের মতে, বাংলাদেশে অন্তত দেড় কোটি লোক চাকরি হারাতে পারে। যার প্রভাব পড়বে তাঁদের পরিবারের উপর। বাংলাদেশের তিন কোটি মানুষ গরিব রয়েছে। করোনা দারিদ্র্যের হার বাড়িয়ে দিবে। প্রাথমিকে অনেক শিক্ষার্থী ঝড়ে পড়ার মূল কারণ দারিদ্র্য। ফলে করোনা পরোবর্তী আনেক শিক্ষার্থী ঝড়ে পড়তে পারে। কারন তাদের অবিভাবকেরা কর্মহীন হলে তাঁদের সন্তানদের পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হবে।

করোনা পরবর্তীতে সিলেবাস ঠিক রেখে মান সম্মত শিক্ষা দেওয়াটাও একটা চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিবে। সরকার শিক্ষা কার্যক্রম অব্যহত রাখতে সংসদ টিভির মাধ্যমে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের পাঠদান কার্যক্রম চালাচ্ছে। ইতোধ্যে জুম ও গুগল মেটের মাধ্যামে অনলাইন ক্লাসও শুরু হয়েছে। কিন্তু তাতে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ সন্তোষজনক না।

এর কারণ বেশিরভাগ শিক্ষার্থীরই নেই ইন্টারনেটের ব্যবস্থা। তাছাড়া টেলিভিশনে বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান দেখায় আগ্রহ থাকলেও শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান দেখায় খুব বেশি আগ্রহ নেই তাদের-এমনকি তাদের অভিভাবকদেরও। সরকারি বিদ্যালয়ের পাশাপাশি বেসরকারি বিদ্যালয়গুলোতেও প্রাথমিক পর্যায়ে অনলাইনে ক্লাস শুরু হলেও নেটওয়ার্ক জনিত সমস্যার কারণে মানসম্মত ক্লাস নেয়া সবসময় সম্ভব হচ্ছে না।

একাডেমি জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ এইচএসসি পরীক্ষা। দীর্ঘ দু’বছরের পাঠ শেষে নিজেকে প্রমাণের ধাপ এইচএসসি পরীক্ষা। পরীক্ষা সময়মত না হওয়ায় অনিশ্চিয়তায় শিক্ষার্থীদের জীবন। অনেকে আশায় বুক বেঁধেছিল, পরীক্ষা শেষে ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে কেউ ডাক্তার, কেউ প্রকৌশলী কেউ বিজ্ঞানী হওয়ার জন্য উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে সুন্দর আগামী বিনির্মাণ করবে, কিন্তু করোনার কারণে তাদের জীবনে ভর করেছে অনিশ্চয়তা।

তাদের সামনে এখন গভীর এক অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ। প্রাণঘাতী করোনার প্রকোপে একরকম স্থবির হয়ে আছে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় সবই বন্ধ। ক্লাস, পরীক্ষা কোনো কিছুই নেই। তবে পরীক্ষার্থীরা ঘরবন্দী থেকেই নিজেদের মত করে নিচ্ছে প্রস্তুতি। কোয়ারেন্টাইনের দিনগুলোতে বইয়ের পাতায় তাকালে ঝাপসা দেখছে শিক্ষার্থীরা। এ যেন মানসিক অপ্রাপ্তি ছাড়া আর কিছুই নয়। একাডেমিকভাবে শিক্ষার্থী বিবেচনায় সবথেকে নাজুক অবস্থায় রয়েছে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। একদিকে কলেজ থেকেও পুরোপুরি বিদায় নিতে পারেনি দেশের সিংহভাগ এইচএসসি পরীক্ষার্থী; অন্যদিকে পাচ্ছেনা শিক্ষকদের তেমন সহযোগিতা বা পাচ্ছে না কোনো গাইডলাইন।

এদিকে শিক্ষাব্যবস্থা চালু রাখার জন্য সরকার এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো নানাবিধ চেষ্টা করে যাচ্ছে। সরকার টেলিভিশনের মাধ্যমে ক্লাসের ব্যবস্থা করেছে। কিন্তু কথা হচ্ছে বাংলাদেশের কতটি পরিবারের নিজস্ব টেলিভিশন আছে? এক্ষেত্রে ধনীক শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা উপকৃত হলেও মধ্যবিত্ত এবং নিম্নবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে পড়ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইতমধ্যে অনলাইনে শিক্ষাব্যবস্থা চালু করেছেন। ফলে নতুন করে সঙ্কটে পড়েছেন অভিভাবকরা।

এদেশের অধিকাংশ পরিবারের জন্য ল্যাপটপ, কম্পিউটার, এনড্রয়েড মোবাইল নতুন শব্দ। করোনাকালীন সময়ে সংসারের অন্যান্য খরচের পাশাপাশি তাদের প্রিয় সন্তানের জন্য এগুলো কিনার মতো বিলাসিতা দেখাতে পারছে না। ফলে পিতা এবং সন্তানের মধ্যে ভালবাসায় চিড় ধরছে। শিক্ষাব্যবস্থায় ধনী এবং গরিবের আসল চিত্র ফুটে উঠেছে। করোনাকালে শিক্ষাব্যবস্থাটা চলে যাচ্ছে ধনীদের কাছে এবং ছিটকে পড়ছে গরিবরা।

করোনাভাইরাস মোকাবেলা করার জন্য সরকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহ বন্ধ রেখেছে। আগামী কতদিন বন্ধ থাকবে বলা মুশকিল। স্বাস্থ্যবিধি মেনে সকল প্রকার অফিস, শিল্প কলকারখানা, গণপরিবহন খুলে দিলেও খুব তাড়াতাড়ি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার কোন সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। সরকারী ছুটি চলাকালীন সময়ে সবচেয়ে বেশি সঙ্কটে আছেন শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকরা।

চরম সঙ্কটে পড়েছে শিক্ষাব্যবস্থা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় ক্লাস, পরীক্ষা, রেজাল্ট, গবেষণা সবকিছুই বন্ধ রয়েছে। তৈরি হচ্ছে সেশনজট। ভেঙ্গে পড়ছে ক্লাসের সিডিউল। শিক্ষার্থীর অভাবে অনেক স্কুল কলেজ বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো তাদের অনেক শিক্ষক ছাঁটাই করবেন খরচ কমানোর জন্য। সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে এ সঙ্কট মোকাবেলায়। প্রণোদনা ঘোষণা করতে হবে শিক্ষাখাতে যাতে উপকার ভোগ করতে পারেন শিক্ষার্থীরা।

অনেক রাজনৈতিক দলসহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন স্কুল খুলে দেওয়ার জন্য ইতোমধ্যেই সরকারের কাছে জোর দাবি জানিয়েছে করেছে মানববন্ধন। তাদের দাবি দেশের সমস্ত ডিপার্টমেন্ট পর্যায়ক্রমে খুলে দেওয়া হয়েছে বাকি আছে শুধু স্কুল-কলেজ। সুতরাং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের খুলে দেওয়া হোক।

সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ইতিমধ্যেই ঘোষণা দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থীদের টিকার আওতায় আনার পর বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেয়া হবে। অপরদিকে রোগ তত্ত্ববিদ্যা বলছেন করোনা নামক রোগটি একেবারে নির্মূল হবে না দীর্ঘদিন এর সঙ্গে আমাদের বসবাস করতে হবে। যেহেতু রোগটি একেবারে নির্মূল হবে না যেহেতু রোগটির সঙ্গে লড়াই করেই আমাদের বাঁচতে হবে। আর তার জন্য যা যা করা দরকার তা করতেই হবে।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে মাস্ক পরিধান করে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে উপযুক্ত স্যানিটাইজেশন করে প্রয়োজনবোধে সপ্তাহে অন্তত একটি করে ক্লাস হলেও করার পক্ষে মত দিয়েছেন। অন্যথায় অনেক কোমলমতি শিশুরা ঝরে পড়ে যাবে বিশেষ করে গ্রামের স্কুল গুলো থেকে। ফলে সৃষ্টি হবে বিরাট এক শূন্যতা ভবিষ্যতে শিক্ষায় পিছিয়ে পড়বে গ্রামীণ জনগোষ্ঠী।

ইউরোপের বহু দেশে করনা কে মাথায় নিয়েই তারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিয়েছে। আমাদেরও সেই পথে হাটা উচিত বলে অনেকে মনে করেন। অনেকেই বলেছেন গ্রামে এই রোগ নাই বললেই চলে। সুতরাং গ্রামের বিদ্যালয়গুলো অন্তত খুলে পরীক্ষামূলক ক্লাস করা যেতে পারে। শিশুরাই জাতির ভবিষ্যৎ সুতরাং কোনো ক্রমেই যেন আমাদের ভুলের কারণে শিশুদের ভবিষ্যৎ ধ্বংস না হয় সেদিকে সবার সজাগ দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন।

লেখক : শিক্ষক, সাংবাদিক ও কলামিস্ট। 

বিডিপ্রেস এজেন্সি/এনকে

আরও পড়ুন...