সাংবাদিকতার মহান পেশায় ‘ভুয়ারা’

বিডিপ্রেস এজেন্সি : সত্য ও ন্যায়নিষ্ঠার প্রতিষ্ঠা এবং নির্ভীক সাংবাদিকতা করতে গেলে অনেক বাধা বিপত্তির মুখে পড়তে হয়, জীবনহানি ও হতে পারে।সত্য অনুসন্ধানী সাংবাদিক দের জীবনী হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রবল, নিষ্ঠা ও নির্ভীক সাংবাদিকতা মানে জীবনের ঘাত-প্রতিঘাত বড় হওয়ার সাংবাদিক।বর্তমান যুগে দাঁড়িয়ে সম্মান টুকু হারিয়ে ফেলেছে নিষ্ঠা ও নির্ভীক সাংবাদিক।সত্য কথা তুলে ধরলেই তাদের বিরুদ্ধে অত্যাচার অবিচার অনাচার চিরকালই রয়ে গেছে। এমনই কি সেই সাংবাদিকরা খুন হয়ে যেতে পারে।তবে বর্তমান যুগের ঘরের পাশে কান পাতলে, সাংবাদিক শব্দটির শোনা যায়। আধুনিকতার  সাংবাদিককে নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বাংলার প্রতিটি রন্ধে রন্ধে।

ইউটিউব চ্যানেলের একটি নাম দিয়ে সাংবাদিকের সম্পাদক ও মালিক হয়ে বসে আছে।সংবাদ সংগ্রহ করার নামে গ্রামগঞ্জে পুলিশ প্রশাসন শরবত টাকার মুনাফা তুলছে এইসব সাংবাদিকরা।অথচ এদের কাছে বৈধ কোন কাগজপত্র নেই পুলিশ প্রশাসনের কাছে তেমনই খবরের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।এইসব সাংবাদিকদের দৌরাত্ম্য নিষ্ঠা নির্ভীক সাংবাদিকতা পেশা থেকে যেন অনেকটা পিছিয়ে পড়েছে, তাহাদের অনাহারে জীবন যাপন করার মতন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সাংবাদিকতার  স জানেনা অথচ সে সাংবাদিক সেজে বসে বাংলার প্রতিটি ঘরে ঘরে ঢুকে কাজ করে চলেছে।

সৎ নির্ভীক সাংবাদিক ভাইদের গতি তলাতে অক্ষম হয়ে পড়েছে।বর্তমান সরকার সাংবাদিকদের উপর এই যথেষ্ট পরিমান সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে, এবং সাংবাদিকদের সমস্ত সুযোগ সুবিধা দিয়েছে বা দিচ্ছে।বেশিভাগ সাংবাদিকরা এইসব সুযোগ-সুবিধায় ভুক্তভোগী হয়ে উঠেছে, অথচ সৎ এবং নির্ভীক সাংবাদিকদের স্থান নেই এই যুগে। তাই আজ আমার কলমে সাংবাদিকতার বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরতে চাই গবেষণামূলক।

সাংবাদিকতার ইতিহাস সাহসিকতার ইতিহাস। বিশ্বের সব প্রান্তেই সাংবাদিকদের ঝুঁকির মধ্যে সংবাদ সংগ্রহ করতে হয়। সাংবাদিকরা তাদের কর্মনিষ্ঠা, সততা ও সাহসিকতা একবিন্দুতে মিলিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন নিরলসভাবে। সাংবাদিকদের কারণে ধরা পড়ছে বড় বড় চোরাচালান, প্রকাশিত হচ্ছে সত্য, বেরিয়ে আসছে নাশকতার নানা তথ্য ইত্যাদি। নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে স্মরণীয় হয়ে আছেন বেশ কয়েকজন সাংবাদিক। তাদের কর্মজীবন অনুপ্রেরণীয়। হত্যা, হুমকিসহ নানা প্রতিবন্ধকতায় যারা সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন।আজ সাহসিকতার মান আমরা আজকের যুগের সাংবাদিকরা বর্তমানে বজায় রাখতে পেরেছি না পারিনি সে প্রসঙ্গে নানা তথ্য তুলে ধরবো। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে সাংবাদিকদের ঝুঁকির মধ্যেই কাজ করতে হচ্ছে। এদের মধ্যে অনেক সাংবাদিক আছেন যারা জীবন হাতের মুঠোয় নিয়ে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে সংবাদ প্রচার করে থাকেন। এসব সাংবাদিককেই বলা হয় যুদ্ধ সাংবাদিক। সংবাদ সংগ্রহের জন্য যুদ্ধ সাংবাদিকরা সরাসরি চলে যান যুদ্ধক্ষেত্রে। অনেক সময়ই ঘটে প্রাণহানি। অনেক সাংবাদিক আহত হন। অসীম সাহসী সাংবাদিকরা তবুও থেমে নেই। কিছু যুদ্ধ সাংবাদিক আছেন যারা তাদের অনন্য মেধা, নিষ্ঠা, সততা ও সাহসিকতার জন্য স্মরণীয় হয়ে আছেন।তবে সাংবাদিকতার পেশার ভবিষ্যৎ নিয়ে ইদানীং বেশ আলোচনা হচ্ছে। গণমাধ্যম শিল্পে অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তা, মেধাবী সাংবাদিকদের এ পেশা ত্যাগ ইত্যাদি নিয়ে দেশের বিশিষ্ট সাংবাদিকরা তাদের মতামত দিচ্ছেন।

সাংবাদিকতার একজন ছাত্র এবং পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন কাগজে সাংবাদিকতা ও এ সম্পর্কিত বিষয়ে লেখালেখি করার সুবাদে এ পেশার ভবিষ্যৎ নিয়ে আমিও উদ্বিগ্ন। খারাপ লাগে এটা চিন্তা করে, সাংবাদিক জীবনে আমি অনেককেই উদ্বুদ্ধ করেছি এ বিষয় পড়তে। কিন্তু গণমাধ্যমে এ পেশার যে সাম্প্রতিক চিত্র দেখছি বা সেই সঙ্গে সাংবাদিকতা পেশায় নিয়োজিত অগণিত ছাত্রছাত্রী, বন্ধু-বান্ধবের কাছে এ পেশার যে বিবরণ নিয়মিত শুনছি, তাতে মনে হলো এ বিষয়ে আমার কিছু লেখা উচিত। তবে আমার এ পর্যবেক্ষণ একান্ত ব্যক্তিগত। এটা নিয়ে বিতর্কের কিছু নেই, অন্য একজন সাংবাদিক হয়তো ব্যাপারগুলো অন্যভাবে দেখবেন।দেশের অনেক পাবলিক এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন নামে সাংবাদিকতা বা এ সম্পর্কিত বিভাগগুলোতে হাজার হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। এটা অবশ্যই প্রত্যাশিত ছিল, গণমাধ্যম শিল্পের এই ক্রান্তিকালে অন্তত দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর এই বিভাগগুলো উদ্বেগ জানাবে, লেখালেখি করবে, বিভিন্ন সেমিনার সিম্পোজিয়াম আয়োজনের মাধ্যমে এই শিল্পকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেবে এবং সর্বোপরি এ শিল্পের পাশে দাঁড়াবে। কিন্তু আমি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর তরফ থেকে আয়োজিত এ ধরনের উল্লেখযোগ্য কোনও আলোচনা বা গবেষণার কথা সাম্প্রতিককালে পত্রপত্রিকায় খুব একটা দেখেছি বলে মনে করতে পারছি না। অন্যদিকেগণমাধ্যমের এ সংকটের কারণ তো বহুবিধ। রয়েছে রাজনৈতিক, রেগুলেটরি বা আইনগত কারণ, প্রযুক্তিগত পরিবর্তন, বিজ্ঞাপনের সংকুচিত বাজার, কন্টেন্ট বা আধেয় সংক্রান্ত ব্যাপার ইত্যাদি। আমি এসব নিয়ে এখানে বিস্তারিত আলোচনা করতে চাইছি না। আমি শুধু সাংবাদিকতা শিক্ষা নিয়ে কয়েকটি কথা তুলে ধরতে চাই, যা এ পেশার সঙ্গে সম্পর্কিত।

যতটুকু শুনেছি দু’চারটা ব্যতিক্রম বাদ দিয়ে বেশিরভাগ গণমাধ্যমই এখন অলাভজনক, কোনোভাবে টিকে আছে। অনেক জায়গায় সংবাদকর্মীরা দীর্ঘদিন বেতনবিহীন। পত্রিকার পাঠক কমছে। টেলিভিশনের বন্ধুরা বলেন দেশীয় চ্যানেলের দর্শকও কমছে। সবকিছুর মধ্যেওপ্রত্যেক গণমাধ্যমের একটা নীতিমালা থাকে। সেটা সম্পাদকীয় নীতি। অর্থাৎ গণমাধ্যম কী সমর্থন করবেন, কী বিরোধিতা করবেন ইত্যাদি। এই নীতিমালা গ্রহণের ব্যাপারে গণমাধ্যম মোটামুটি স্বাধীন। তবে কোনো গণমাধ্যম ইচ্ছে করলেই দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, মুক্তিযুদ্ধ ইত্যাদির বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করতে পারবে না। সাম্প্রদায়িকতার পক্ষেও অবস্থান গ্রহণ করতে পারবে না। কারণ এগুলো রাষ্ট্রীয় নীতি। এর বাইরে একটি গণমাধ্যম মোটামুটি স্বাধীন সম্পাদকীয় নীতি গ্রহণ করতে পারে। গণমাধ্যমের মালিক বা মালিক গোষ্ঠী তাদের পছন্দমতো কিছু নীতি ঠিক করতে পারে। সেই নীতির আলোকেই প্রতিটি গণমাধ্যম পরিচালিত হয়। গণমাধ্যমে কর্মরত সব সাংবাদিক সেই নীতি অনুসরণ করেই কাজ করে থাকেন। এটা মোটামুটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি পথ।তবেএর বাইরে প্রত্যেক গণমাধ্যমের একটা নৈতিকতা থাকে। ইংরেজিতে যাকে বলে এথিকস। গণমাধ্যমের নীতি যাই হোক না কেন, এথিকস তাকে মেনে চলতেই হবে। এটাও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। একটি গণমাধ্যম একজন বা একাধিক ব্যক্তির অর্থ বিনিয়োগে পরিচালিত হলেও গণমাধ্যমের মালিক বা পরিচালক যা খুশি তা করতে পারেন না। যে দেশের গণমাধ্যম সেই দেশের সাধারণ মূল্যবোধ, সংস্কৃতি, ধর্মীয় মূল্যবোধ ইত্যাদির আলোকে গণমাধ্যমের নৈতিকতা নির্ভরশীল। এই এথিকস পৃথিবীর সব দেশে একরকম নয়। বিভিন্ন দেশের ভিন্ন ভিন্ন মূল্যবোধ দ্বারা তা পরিবর্তিত হতে পারে। সবকিছু মিলিয়ে মিশিয়ে আমরা বলতে পারি,ভিন্নধর্মী এক পেশার নাম সাংবাদিকতা।

সংবাদপত্র ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়াকে মানুষের কাছে গ্রহণীয় করার জন্য ফুলে-ফলে সাজায় যে কর্মী তার নাম সাংবাদিক। দিন দিন বাড়ছে ঝুঁকি। আর্থিক নিশ্চয়তাও কম। তবুও সাংবাদিকের লাইন বড় হচ্ছে। কী মধু এ পেশায়? সাংবাদিকতাকে কেউ ‘নেশাদ্রব্য’, আবার কেউ ‘প্রেমরোগ’ এর সঙ্গে তুলনা করেন। একবার নেশা ধরলে ছাড়া যেমন কঠিন, তেমনি প্রেমে পড়লে তা থেকে বের হওয়াও সহজ নয়। নামিদামি রাজনীতিকের সফরসঙ্গী, মন্ত্রী-এমপি বা আমলাদের সাথে হেসে হেসে কথা বলা, আর দশজন থেকে অন্য চোখে দেখা, আলাদা খাতির-যত্ন, বিনা বাধায় নানা জায়গায় প্রবেশের সুযোগ- নিজেকে কী আর ধরে রাখা যায়! পাশের মানুষটির চেয়ে একটু ‘বড়’ ভাবাই যায়। সেই লক্ষ্যেইসাংবাদিকের কাজ কী? কোন পথে সে চলবে? এমন প্রশ্ন করা হলে সবার জবাব হবে- সাংবাদিক হচ্ছে সমাজরক্ষক। সব অসঙ্গতি, ভুল-ভ্রান্তি প্রচার মাধ্যমে তুলে ধরে কর্তৃপক্ষের ‘চোখে আঙ্গুল দিয়ে’ দেখিয়ে দেয়ার দায়িত্ব তার। সত্যের সন্ধানে সে থাকবে নির্ভীক। সব সময় সে নির্যাতিত, লাঞ্ছিত, বঞ্চিত, অসহায়, অবহেলিত মানুষের পাশে দাঁড়াবে। কথাগুলো শুনতে ভালই লাগে। আজকাল অনেকেই চেনাজানা পথটি হারিয়ে ফেলেছে। মূল পথ থেকে অলিগলি করে করে কেউ কেউ এখন ‘নিষিদ্ধ গলিতে’ পথ মাড়াতেই স্বাচ্ছন্দবোধ করছে। সমাজ, দেশ নিয়ে চিন্তা-ভাবনার অনেক লোক রয়েছে। এ নিয়ে সাংবাদিকরা মাথা না ঘামালে মহাভারত কি অশুদ্ধ হয়ে যাবে? তাই আজ সাংবাদিকদের মধ্যে বিভেদ। পেশাদার সাংবাদিক আর অপেশাদার সাংবাদিকের মধ্যে দ্বন্দ্ব বাড়ছে। একদল সত্যের পক্ষে, আরেকদল ‘যা খুশি তাই’ করার পক্ষে। একদল চাচ্ছেন- পেশার মর্যাদা রক্ষা করতে, অন্যদলের ‘চিন্তাভাবনার সময়’ নেই।

দিনদিন বিভক্তি বাড়ছে। লেজুড়বৃত্তি করতে না পারলে অনেকের ‘ঘুম’ হয় না।এইসব লেজুড়বৃত্তি সাংবাদিকরা  অর্থে গাড়ি-বাড়িতে ও সম্মানে বৃহত্তর জায়গা দখল করেছে। সৎ নির্ভীক নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার ইতিহাসে বিলুপ্তির পথে,সৎ নির্ভীক সাংবাদিকদের উপরে অত্যাচার অবিচার অনাচার আজো বাংলার বুকে অব্যাহত।সেই তুলনায় বাংলার অন্যান্য সাংবাদিকরা অনেকেই ভালই আছে লেজুড়বৃত্তি করে ও।তবে আজকের আমি আমার কলমে সেই কথাগুলো ও সাংবাদিকতার কিছু বিষয় এবং প্রকারভেদ আলোচনা বা সমালোচনায় বল, আমার লেখার মধ্যে তুলে ধরছি।

সাংবাদিকদের প্রকারভেদ ঘটছে। তাদেরকে কখনো ‘সাংঘাতিক’; কখনো ‘হলুদ সাংবাদিক’, ‘আন্ডারগ্রাউন্ড সাংবাদিক’ ‘চাঁদাবাজ সাংবাদিক’, ‘সন্ত্রাসী সাংবাদিক’; আবার কখনো ‘এমনি এমনি সাংবাদিক’, ‘কাঁচিওয়ালা সাংবাদিক’,‘ সিন্ডিকেট সাংবাদিক’, ‘ফ্লুইড মারা সাংবাদিক’, ‘বিজ্ঞাপন সাংবাদিক’, ‘রাজনৈতিক সাংবাদিক’ ‘গলাবাজ সাংবাদিক’ ‘ভাড়াটে সাংবাদিক’ ‘দালাল সাংবাদিক’ ‘ঠিকাদার সাংবাদিক’ প্রভৃতি নামে ডাকা হয়।

বিভিন্ন বিশেষণে ভূষিত করা হলেও তারা ‘সাংবাদিক’- এটাই বড় কথা। এ নিয়ে কারো খারাপ লাগা বা মনে সামান্য দুঃখবোধও জাগে না।তাইআজকাল অনেক সংবাদপত্র মানুষের আস্থা হারিয়েছে। আসলে ওগুলোকে পত্রিকা বলা হবে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ব্যক্তিস্বার্থ, গোষ্ঠীস্বার্থ চরিতার্থ করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয় ঐ সব ‘খবরের কাগজ’। যা এখন ‘হলুদপত্র’ নামে পরিচিত। ‘আন্ডারগ্রাউন্ড’ এসব পত্রিকার প্রচার নেই। মানুষের কাছে পৌছে না। অন্যদিকে, দুর্নীতির এক অন্ধজগতে বসবাস করছে সাংবাদিক ‘নামধারী’ কিছু লোক। তারা সাংবাদিকতার পরিচয় ভাঙ্গিয়ে ‘সমাজের বারোটা বাজিয়ে’ যাচ্ছে। এদেরকে বলা হয় ‘হলুদ সাংবাদিক’। এদের সংখ্যা বাড়ছেই।

আজকের সাংবাদিকদের দেখলে মানুষ অনেকে ঘৃণার চোখে দেখে, সাংবাদিকতা মানে তোলাবাজ এমনই ইতিহাস প্রচলিত আছে।আর যারা তলা তুলে বেড়ায় তারা সাধু ও দোয়া তুলসীপাতা সাংবাদিক সেজে সমাজের বুকে ঘুরে বেড়াচ্ছে।আর সৎ ও নিষ্ঠাবান সাংবাদিকদের উপরে আঙুল তুলছে এই অসাধু অসাংবিধানিক ও ভুয়ো সাংবাদিকের দলেরা।আগে সাংবাদিকদের মানুষ শ্রদ্ধা করতো, ভালবাসতো, আপনজন হিসেবে জানতো। এখন তাদেরকে ‘ভয়’ পায়, না ঠেকলে কাছে আসতে চায় না। ‘চাঁদাবাজি করতে গিয়ে তিনজন সাংবাদিক আটক’- এ ধরনের খবরও আজকাল ছাপা হচ্ছে। আগের দিনে শুধু দারোগারা ‘মফস্বল’ যেতেন। এখন সাংবাদিকরাও যান। কোন বিষয় ভালভাবে জানার জন্য, কোন জায়গায় যাওয়াটা দোষের নয়। কিন্তু তদন্তের নামে যখন তেল দেয়া ভাত, মুরগির রান, বড় মাছের পেটি, সাথে মিষ্টান্নের আয়োজন হয়; আবার যাবার বেলা নগদ টাকা, ক্ষেতের লাউ, কুমড়ো, বেগুন, কলা, কচু’র প্যাকেট হাতে ধরিয়ে দেয়া হয় এবং সাংবাদিক তা বগলে করে বাড়িতে নিয়েও আসেন, তখনই প্রশ্ন দেখা দেয়। এজন্যই হয়তো কেউ কেউ সাংবাদিকদের ‘সাংবাদিক’ এর বদলে ‘সাংঘাতিক’ সম্মোধন করে।এমন অনেক সাংবাদিক আছেন- যাদের কাগজ-কলম কিনতে হয় না, বছরে একটি নিউজ লিখতেও হয় না। মিডিয়ার সঙ্গে কোন যোগাযোগের দরকার নেই। তবে সাংবাদিক হিসেবে পরিচয়পত্র আছে, সাংবাদিক তালিকায় তাদের নাম আছে, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সাংবাদিক হিসেবে দাওয়াত করা হয়, আর কি চাই? এরা হচ্ছেন- এমনি এমনি সাংবাদিক। এদিকে কিন্তু পাঠক, দর্শকের তথ্যের বা বিনোদনের চাহিদা তো কমেনি।

অনলাইনে প্রচুর পাঠক বিভিন্ন উপায়ে তাদের তথ্য বা বিনোদনের চাহিদা ঠিকই মেটাচ্ছেন। টিভি যারা দেখছেন, তারা দেখছেন বিদেশি চ্যানেল বা ইউটিউবে দেখছেন ভিনদেশের অনুষ্ঠান। সে কারণেই আমরা অনেকেই বলে থাকি।সাংবাদিকতার বর্তমান শিক্ষা পাঠক, দর্শক-শ্রোতার এই পরিবর্তনশীল চাহিদাকে কতটুকু মেটাতে পারছে বা ভবিষ্যতে কতটুকু মেটাতে পারবে তা নিয়ে সাংবাদিক বন্ধুরা প্রায়ই প্রশ্ন তোলেন। সবদেশেই গণমাধ্যমকে এখন গ্লোবাল কন্টেন্টের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হচ্ছে এবং দেশীয় অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে সবাই চান আন্তর্জাতিক মানের উপস্থাপনা। এক্ষেত্রে আমরা পিছিয়ে পড়েছি। সাংবাদিক বন্ধুরা প্রায়শই অভিযোগ করেন, লেখালেখি, storytelling এবং screenwriting ইত্যাদি ক্ষেত্রে আমাদের গ্র্যাজুয়েটদের দুর্বলতা নিয়ে।

মানসম্মত কন্টেন্ট, ভিন্ন দৃষ্টিতে দেখার যোগ্যতা, আকর্ষণীয় উপস্থাপনার ক্ষেত্রে মনোযোগী হওয়ার মাধ্যমে পাঠক, দর্শক, শ্রোতাকে কিছুটা ধরে রাখার প্রচেষ্টা তো নেওয়া যায়। কিন্তু বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতার কারিকুলাম কতটুকু জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করার মাধ্যমে এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখছে, তা নিয়ে হয়তো বিতর্ক হতে পারে। অন্যদিকে সাংবাদিকরা দুর্নীতি বিরুদ্ধে কথা বলেন, পত্রিকায় রিপোর্টও পাঠান। কিন্তু নিজের দিকে তাকান না। নিজের স্বার্থে দুর্নীতিকে সহায়তা করেন, কোন কোন সময় অন্যকে পথ দেখিয়ে দেন। খুন-খারাবি, বড় ধরনের মারামারি, পারিবারিক সমস্যা, দুর্ণাম বিষয়ক ঘটনা হলে অনেক সাংবাদিকের পোয়াবারো। রিপোর্ট করা থেকে নিবৃত্ত করার জন্য নিলামের মতো দর ওঠে। বনিবনা হলে সব মাটি। আর টাকা দেয়া না হলে খেয়াল খুশি মতো নিউজ ছাপা হবে, প্রয়োজনে সিরিজ নিউজ, নিউজ আইটেম না হলেও নিউজ। টাকায় নাকি ভিটামিন আছে, তাই টাকা নিতে ঐ সাংবাদিকদের কোন লজ্জা নেই। আগে শোনা গেছে- বাদী-বিবাদী দু’ পক্ষ থেকেই দারোগারা টাকা খান, কোন কোন আইনজীবীরও এ ‘গুনটি’ আছে। এখন কোন কোন সাংবাদিকও বিষয়টি রপ্ত করে ফেলেছে।

এসব যাই হোক না কেন?আমাদের দেশে ‘ভাল’ সাংবাদিকের অভাব নেই। তারা সমাজের মঙ্গলের কথা চিন্তা করেন, দেশের কথা ভাবেন, নিজের দায়বদ্ধতা, পেশার মান-সম্মান সব দিক তার নজরে থাকে। কিন্তু কে ভাল, কে মন্দ তা বিচার করার সময় সাধারণ মানুষতো পায় না। তারা সবাইকে এক পাল্লায় মাপেন। এ জন্যই আজকাল অনেকে নিজেকে সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিতে চান না। অনেকটা গোপনে কাজ করতে চান।সেই কারণেই এই লেখার মধ্যে দিয়ে সাংবাদিকবন্ধুদের বলতে চাই!সাংবাদিকতার মতো একটি মহান পেশার এই চিত্র কারো কাম্য হতে পারে না। সচেতন মহল অবশ্যই চান- এ পেশা থেকে সব ‘আবর্জনা’ দূর হোক, নতুন সমাজ গড়তে সাংবাদিকের কলম আরও শক্তিশালী হোক, পেশার মর্যাদা বৃদ্ধি পাক, বন্ধু হিসেবে সব সময় সাংবাদিক থাকবে সাধারণ মানুষের পাশে, সে সোজা পথে চলবে, ওই সব ‘অলিগলিতে’ পা দেয়ার চিন্তাও তার মাথায় আসবে না।

আসলে সাংবাদিকতার এ ‘খন্ডচিত্র’ স্থায়ী হতে পারে না। মেঘের পরেই সূর্য। সাংবাদিকতার সূর্যালোকে আলোকিত হোক এ দেশের প্রতিটি জনপদ।

বিডিপ্রেস এজেন্সি/টিআই

আরও পড়ুন...