সরকারি অফিসের সামনে ড্রেনের নোংরা পানি, দুর্গন্ধে নাকাল চারপাশ

বিডিপ্রেস এজেন্সি,ধুনট,বগুড়া : বগুড়ার ধুনট উপজেলার পৌর এলাকায় সরকারী অফিসের প্রধান ফটকের সামনের সড়কে বেশ কয়েকদিন যাবৎ ড্রেনের নোংড়া পানি প্রবাহিত হতে দেখা যায়। সড়কের পুর্বপাশে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন সরকারী দপ্তর এবং নোংড়া পানির ড্রেন ঘেঁসে সড়কের ঠিক পশ্চিম পাশে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়। গত শনিবার (১৬ জানুয়ারী) সরজমিনে দেখা যায়, ড্রেন উপচে সড়কের প্রায় অর্ধেক অংশই নোংড়া পানিতে প্রবাহিত হতে হয়েছে। এতে যানবাহনসহ পথচারীদের চলেচলে নানামুখী সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। তাছাড়া নোংড়া পানির দুর্গন্ধে সড়কের দাড়ানো বা বসে থাকা প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠছে দিন দিন।

সপ্তাহে দুই দিন শনি ও মঙ্গলবার সাপ্তাহিক হাটের দিন সড়কের ওই স্থানেই নার্সারীর বিভিন্ন চরাগাছ বিক্রি হয়। হাটের দিনসহ প্রতিদিনই প্রাকৃতিক ডাকে সারা দিয়ে জরুরী কাজের জন্য সরকারী অফিস ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দেওয়ালকেই বেছে নেয় পথচারীরা। উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা পরিষদের উদ্যোগে বেশ কয়েক বার পরিচ্ছন্ন অভিযান পরিচালনা হওয়ার পর পথচারীদের পরিবেশ দ্ধুসঢ়;ষণের কাজ অনেকটাই থেমে গিয়েছিল। সম্প্রতি আবারও নানা কারনে সড়কের ওই অংশে পরিবেশ দুষণে মরিয়া হয়ে উঠেছে অচেতন নাগরিকেরা। মতিয়ার রহমান নামে এক পথচারী বলেন, উপজেলার সরকারী অফিসের সামনে এমন নোংড়া অবস্থা সত্যিই লজ্জা জনক।

আমি সরকারী কোন কর্মকর্তা বা স্থানীয় জন প্রতিনিধিদের দোষ দিবোনা। কেননা, তারা বেশ কয়েক বার পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করে সাধারন মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু সাধারন মানুষ সচেতন না হয়ে উল্টো আবারও অপরিচ্ছন্ন করার কাজে লিপ্ত হয়েছে। বিউটি খাতুন নামে এক রোগী জানায়, আমার স্বামী আমাকে উপজেলা পরিষদের সামনের সড়কে প্রাথমিক বিদ্যালয় গেটে দাড়িয়ে রেখে ঔষধ আনতে যায়। কান্তু পরেক্ষনেই ড্রেনের পঁচা পানির দুর্গন্ধে আমি বমি করে অসুস্থ্য হয়ে পরি। তৎক্ষনাত আমার শিশু সন্তানকে নিয়ে ওখান থেকে সরে গিয়ে এক কম্পিউটারের দোকানে বসে বিশ্রাম নেই। এক প্রশ্নের জবাবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক গাছ বিক্রেতা জানায়, দুর্গন্ধের কারনে এই স্থানে দাড়িয়ে ব্যবসা করতে আমাদের সমস্য হয়। ক্রেতারাও বেশি দেরি করেনা।

অন্যের দেখা দেখি আমি নিজেই মাঝে মাঝে এখানে প্রাকৃতিক জরুরী কাজ করি। তবে বিশেষ করে প্রশাসনিক ভবন থেকে শুরু করে মুজিব চত্বর পর্যন্ত পরিচ্ছন্ন রাখতে প্রশাসন ও জন প্রতিনিধিরা কঠর ব্যবস্থা গ্রহন করলে অরিচ্ছন্ন ও দুর্গন্ধ থেকে পরিত্রান পাওয়া সম্ভব হবে। রুহুল আমিন নামের এক শিক্ষক বলেন, শিক্ষা অফিস ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে এমন নোংড়া পরিবেশ সত্যিই বেমানান। শিক্ষিত সমাজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে নোংড়া পরিবেশ কখনই কামনা করেনা। দ্রুত এর প্রতিকার হওয়া জরুরী বলে মনে করি এবিষয়ে ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার মহন্ত বলেন, প্রশাসনিক ভবনের সামনে এ ধরনের অপরিচ্ছন্ন কাজ না করার জন্য বেশ কয়েক পরিচ্ছন্ন অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। আমাদের তরফ থেকে জনসচেতনতার কোন ত্রুটি নেই। তবে সাধারন মানুষ যদি সচেতন না হয় তাহলে এ ধরনের কাজ হতেই থাকবে। এধরনের অপরিচ্ছন্ন কাজ যেন না হয় সে জন্য শুধু প্রশাসন নয়- স্থানীয় জন প্রতিনিধি, সুশীল সমাজ ও সচেতন মানুষদের এগিয়ে আসা উচিত।

বিডিপ্রেস এজেন্সি/টিআই

আরও পড়ুন...