সমানতালে চলছে মাদক ও কিশোর গ্যাং | বিডিপ্রেস এজেন্সি

ছবি : জিয়াউদ্দিন লিটন।

জিয়াউদ্দিন লিটন : মাদক ও কিশোর অপরাধ একটা সামাজিক ব্যাধি। একটি আরেকটির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। যে যে কারণে কিশোর গ্যাং করে সেইসব কারণেই মাদকাসক্ত হয় তরুণ-তরুণীরা। এছাড়া দীর্ঘদিন থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় অনলাইনে বেশি সময় কাটাচ্ছে যুবসমাজ। তাই অনলাইনের মাধ্যমে গ্যাং তৈরি করছে পরে তারা মাদকের সাথে জড়িয়ে পড়ছে। মাদক সেবন এবং ব্যবসা আর খুন অপরাধ, করোনাভাইরাস বা লকডাউন কিছুই মানছে না।

করোনা ঠেকাতে অনেক কিছুই যখন কমে গেছে নিয়ন্ত্রিত তখনও অবাধে চলছে মাদকের ব্যবসা ও অপরাধ কান্ড। লকডাউন এরমধ্যে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে মাদক কারবারি ও সেবনকারীরা। দেশের অভিজাত এলাকার হয়ে পাড়া-মহল্লা দাপিয়ে মাদকের ভয়াল থাবা শহর থেকে শুরু করে এখন গ্রামের ঘরে ঘরে। ভয়াল মাদকাসক্তি তারুণ্য মেধা বিবেক লেখাপড়া মনুষত্ব সবকিছু ধ্বংস করে দিচ্ছে। তবে দীর্ঘদিন থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ইসলামী মূল্যবোধ শিক্ষা কমে যাওয়া সামাজিক নীতিহীনতা নেয় বিচারহীনতা এবং অভিভাবক ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি কমে যাওয়ায় এ ধরনের অপরাধ বাড়ছে বলে বিশেষজ্ঞদের অভিমত।

আধিপত্য বিস্তার ও মাদক সেবনের জের ধরেই ওই খুনের ঘটনা ঘটছে অহরহ। প্রভাবশালীরা মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে বলে অনেক ভুক্তভোগী এ বিষয়ে প্রতিকার চাইতে পারেন না। এছাড়াও প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা মাদকের সাথে জড়িত হচ্ছে। এমনকি বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে নতুন নতুন মাদক আসছে মাদক এর সর্বশেষ সংযোজন ভয়ঙ্কর এল এস ডি’র (লাইসার্জিক এসিড ডাইইথ্যালামাইড) সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। নেদারল্যান্ডস ও সুইডেন থেকে দেশে নিয়ে আসা এই মাদক ছড়িয়ে পড়েছে উচ্চবিত্তের মধ্যে।

বিশেষজ্ঞদের মতে এলএসডি এমন একটি ড্রাগ যা মস্তিষ্কে এমন এক প্রভাব সৃষ্টি করে যা হ্যালুসিনেশনে (সম্মোহনে) সাহায্য করে। বিভিন্ন রকম রং এবং আকৃতির জিনিস দেখতে পাওয়া যায় যার অস্তিত্ব পৃথিবীতেই নেই। শুধু তাই নয় সেবনকারীর মধ্যে নিজেকে অথবা অন্যকে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করার প্রবণতা প্রবল হয়ে ওঠে। উঠতি বয়সীদের পাশাপাশি স্কুল পড়ুয়ারা ও এখন ইয়াবা হেরোইন ফেনসিডিল আসক্ত হয়ে পড়েছে।

লকডাউনের মধ্যে বাসায় থেকে বাইরে এসে একত্র হয়ে সহপাঠীরা মিলেমিশে হেরোইন ইয়াবা সেবন করছে। বর্তমানে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে হাত বাড়ালেই অনায়াসে পাওয়া যাচ্ছে গাজা ইয়াবা ইনজেকশন হেরোইন চোলাই মদসহ বিভিন্ন মাদক। এসব না পেলেও পাড়া-মহল্লার দোকানে অনায়াসে পাওয়া যায় উত্তেজক নেশাজাতীয় এনার্জি ড্রিংকস। সম্প্রতি মাদকবিরোধী অভিযানে ধীরগতি ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তৎপরতা কমিয়ে দেয়ায় এমন অপরাধ বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে মনে করেন অনেকেই।

মাদক বাণিজ্যের সঙ্গে দেশের কিছু প্রভাবশালী লোকজন জড়িত। কেউ বেশি সংখ্যক ইয়াবা নিয়ে আটক হলেই ভিআইপি স্থানীয় প্রভাবশালীরা তাদের ছাড়িয়ে নিতে তদবির করে। রাজনৈতিক নেতারাও নিয়ন্ত্রণ করছে মাদক-বাণিজ্য এমন ধারণা করছে সাধারণ অনেকেই। কেন্দ্রীয় পর্যায়ে থেকে মহানগর জেলা ও উপজেলায় ওয়ার্ল্ড এমনকি ইউনিট পর্যায়ের অনেক নেতা-কর্মী সমর্থক সরাসরি মাদক কেনাবেচা করছে। ইউনিয়ন পর্যায়ের মেম্বার থেকে শুরু করে ইউপি চেয়ারম্যান উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান কতিপয় জাতীয় সংসদ সদস্যদের বিরুদ্ধে মাদক কেনাবেচা শহর সরবরাহ কাজে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

মাদকই এখন আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে শেষ করে ফেলছে। তাদের ধ্বংসের পাশাপাশি সমাজকে কলুষিত করছে। মরণনেশা ইয়াবার নতুন নতুন মাদক এখন সারা দেশের আনাচে-কানাচে পাওয়া যায় বলে অনেকেই এতে আসক্ত হয়ে পড়ছে।

সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়ার মাধ্যে কিছু ত্রুটি বিচ্যুতির কারণে অনেকেই অপ্রত্যাশিত ব্যবহার করে। অপ্রত্যাশিত আচরনের নানা কারণ হতে পারে। যেমন কখনো মাদকের সেবন, কখনো বন্ধু-বান্ধবের সাথে আড্ডা, কখনো পিতা-মাতার সঠিক দায়িত্ব পালন না করায় সন্তান অপ্রত্যাশিত আচরন করতে পারে। তাই এ ধরণের অপরাধ থেকে আমাদের সন্তানকে বাঁচাতে হলে এখনই অভিভাবকদের মাস্টার প্ল্যান করা প্রয়োজন।

লেখক : শিক্ষক, সাংবাদিক ও কলামিস্ট।  

বিডিপ্রেস এজেন্সি/ইমরুল রনি

আরও পড়ুন...