রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘মুক্তিযুদ্ধ দিবস’ চাই

লেখকের ছবি।

শফিকুল ইসলাম খোকন : আমি মুক্তিযোদ্ধা নই, মুক্তিযুদ্ধ দেখিওনি। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস যখন পড়ি, শুনি বা মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে যখন সঙ্গ দিই, তখন আবেগে চোখে পানি এসে যায়। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বুলেটের আঘাতে মৃত্যু নিশ্চিত জেনেও দেশ স্বাধীন করার জন্য যুদ্ধে নেমেছিলেন, এমনটা ভাবতে নিজেকে খুব গর্ব মনে হয়। এমন একটি দেশে জন্ম হয়েছে, এমন একটি দেশে বাস করছি। আবার যখন সেই মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান করতে দেখা যায়, তখন বড় কষ্ট লাগে, তা বড় বেদনার।

আর যখন স্বাধীনতার ৫০ বছরে এসে সেই মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাইয়ের নামে মুক্তিযোদ্ধা হয়ে যায় অমুক্তিযোদ্ধা আর অমুক্তিযোদ্ধা হয়ে যায় মুক্তিযোদ্ধা; তাও দেখতে হয়। আসলে মুক্তিযুদ্ধ বা মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে বিতর্ক কখনোই কাম্য ছিল না আমাদের। মুক্তিযুদ্ধ বাঙালির জীবনের এমন এক অধ্যায়- যাকে কোনো কিছু থেকেই বিচ্ছিন্ন করা যায় না। না যাপিত জীবনে, না মননের ক্ষেত্রে। মুক্তিযুদ্ধ বাঙালির জীবনের প্রতিটি মুহূর্তের প্রেরণা। দীর্ঘদিন পরাজিত, দমিত, দলিত জনগোষ্ঠীর আত্ম আবিষ্কারের নাম মুক্তিযুদ্ধ। মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের মূলে রয়েছে তরুণ সমাজের সংগ্রাম ও স্বপ্ন।

এ বিজয়ের মূল উদ্দেশ্য ছিল বাঙালিত্বের চেতনা, ধর্মনিরপেক্ষতা, সমাজতন্ত্রের চেতনা, গণতন্ত্রের চেতনা। মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ এলে এসব চেতনার কথাই আমার মনে জাগে। আমার মনে হয় আমরা অর্জন করেছি অনেক কিন্তু আরও অর্জন করার কথা ছিল। বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে তা ৫০ বছর হয়ে গেল। এ নিয়ে মূল্যায়ন করতে বললে, সংক্ষেপে বলব, মুক্তিযুদ্ধের ভিতর দিয়ে যে বিজয়টা আমরা চেয়েছিলাম তা আসলে অর্জিত হয়নি। আমরা চেয়েছিলাম সকল মানুষের মুক্তি, বৈষম্যহীন একটা সমাজ। একটা সময়ের পর দেখা গেছে, সমাজ বৈষম্যহীন হয়নি।

এতে কোনো কোনো মানুষ লাভবান হয়েছেন কিন্তু বৈষম্যটা বেড়ে গেছে। আর এই বৈষম্যটাও হচ্ছে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়েও। মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভ বাঙালি জাতির হাজার বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অর্জন। হঠাৎ করেই এ স্বাধীনতা অর্জিত হয়নি। এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘ সংগ্রামের এক ইতিহাস। এ ইতিহাস যেমন গৌরবের তেমনি বেদনার। অনেক ত্যাগ, ত্রিশ লাখ শহীদের আত্মদান, দু’লাখ মা-বোনের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের স্বাধীনতা। স্বাধীনতার ইতিহাস রক্তের অক্ষরে লেখা। ত্যাগের মহিমায় উজ্জ্বল। শপথ, সংগ্রাম আর স্বপ্নের গর্বিত অধ্যায়। আমাদের স্বাধীনতার যুদ্ধ বা মুক্তিযুদ্ধের পেছনে সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক নানাবিধ কারণ রয়েছে।

ইতিহাসের নানা বিরুদ্ধ বাঁক অতিক্রম করে এ দেশের মানুষ স্বাধীনতার স্বাদ লাভ করে। জাতীয় জীবনে গুরুত্বপূর্ণ সব অধ্যায়, প্রসঙ্গের আলোচনা হয়তো এখানে করা সম্ভব নয়। তবে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে এ দেশের আপামর জনগণ অংশগ্রহণ করেছিলেন অস্তিত্ব রক্ষার প্রগাঢ় তাগিদে। কেউ সরাসরি, কেউ পরোক্ষভাবে সমর্থন ও সহযোগিতার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধে বিভিন্ন পেশার, শ্রেণির জনগণের অংশগ্রহণ, দেশপ্রেম, অনমনীয় মনোভাব স্বাধীনতা যুদ্ধের বিজয়কে ত্বরান্বিত করেছিল। এ বিজয়ে এ দেশের শিল্পী, সাহিত্যিক, লেখক, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবীরা ইতিহাসের অনিবার্য এ অভিযাত্রায় শামিল হন স্বতঃস্ফূর্ত জাগরণে।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে শুরু হয় গণহত্যা। এ প্রেক্ষাপটে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং মুক্তিযুদ্ধের ডাক দেন। ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণার পরপরই বঙ্গবন্ধুকে পাকিস্তানি হানাদাররা গ্রেপ্তারে সমর্থ হলেও ওই দিনই শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। দীর্ঘ ৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধ শেষে পাকিস্তানি দখলদাররা আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়।

বিশ্বের ইতিহাসে এত কম সময়ে দেশ স্বাধীনতা অর্জন হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধারা দেশের জন্য নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেই বঙ্গবন্ধুর ডাকে মুক্তিযুদ্ধে শামিল হয়েছিলেন। ধ্বংসস্তূপের মধ্য দিয়ে সরকার গঠনের পরও বঙ্গবন্ধু সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে নানামুখী পদক্ষেপ নেয়। বঙ্গবন্ধু হত্যার দুই দশক পর তার কন্যা শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী ভাতা দেওয়ার পদ্ধতি চালু করেন।

পর্যায়ক্রমে বাড়িয়ে ১২ হাজার টাকা থেকে এখন ২০ হাজার টাকায় উন্নিতের সিদ্ধান্ত নিয়েছে শেখ হাসিনা সরকার। এটি সত্যিকার অর্থে প্রশংসনীয়। বঙ্গবন্ধুর হত্যার পর যত শাসক এসেছে তারা সুকৌশলে মুক্তিযোদ্ধাদের ব্যবহার করতে চেয়েছে এবং অসম্মান ও মযর্দাহীন করেছে। মুক্তিযোদ্ধারা আশা করেছিলেন, মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দানকারী দল (আওয়ামী লীগ) রাষ্ট্রক্ষমতায় যদি অধিষ্টিত হয় তবে মুক্তিযোদ্ধারা যথাযথ মযার্দায় ভূষিত হবেন, সম্মানীত হবেন।

রাষ্ট্র ও সমাজে মাথা উঁচু করে চলতে পারবেন। মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ী সৈনিকরা তা আর হলো না। মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে রাজনৈতিক খেলার অবসান হলো না। ৫০ বছর পেরিয়ে গেল স্বাধীন বাংলাদেশ, কিন্তু মুক্তিযোদ্ধারা অবহেলার পাত্র থেকে গেল!! জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকারের আমলে যথার্থ মূল্যায়িত হলেও কখনো কখনো অবমুল্যায়নও হচ্ছে। অমুক্তিযোদ্ধার কারণে সুর্য্য সন্তানরা সমালোচিত হচ্ছে।

যদিও আওয়ামীলীগ সরকার এসে মুক্তিযোদ্ধাদের অনেক ক্ষেত্রে সম্মান দিয়েছেন। মুক্তিযোদ্ধারা যেন সচ্ছলভাবে জীবন যাপন করতে পারেন, সে জন্য ২০২০-২১ অর্থবছর থেকে তাঁদের মাসিক সম্মানী আট হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করেছেন। আর মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও চেতনা বাস্তবায়নে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সাধারণ শিক্ষায় অধ্যয়নরত প্রত্যেককে এক হাজার টাকা এবং মেডিক্যাল ও ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে অধ্যয়নরত প্রত্যেককে এক হাজার ৫০০ হারে ২০১২-১৩ অর্থবছর থেকে ২০১৭-১৮ অর্থবছর পর্যন্ত মোট তিন হাজার ৪৬০ জনকে বৃত্তি দেওয়া হয়েছে বৃত্তিপ্রাপ্ত ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও চেতনা কতটুকু বাস্তবায়িত হয়েছে, তা যাচাই-বাছাইয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা গ্রহণের লক্ষ্যে বৃত্তিপ্রাপ্তদের বিস্তারিত তথ্য আগামী বৈঠকে উপস্থাপনের সুপারিশ করা হয়।

মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের যে চিকিৎসা খরচ দেওয়া হয়, প্রয়োজন অনুযায়ী তা মাসিক হারে প্রদানের সুপারিশ করা হয়। সবশেষ ‘মুজিববর্ষে কেউ গৃহহীন থাকবে না’ সরকারের এমন প্রতিশ্ধসঢ়;রুতি বাস্তবায়নে অসচ্ছল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আবাসনের জন্য প্রকল্পের মাধ্যমে ‘বীর নিবাস’র সংখ্যা ১৪ হাজার থেকে দ্বিগুণেরও বেশি ৩০ হাজার করা হয়েছে। এজন্য ‘অসচ্ছল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য আবাসন নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পটি সম্প্রতি একনেকে অনুমোদন পেয়েছে। এটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ১২২ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। এছাড়াও দেশ স্বাধীন হওয়ার পর স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবসসহ রাষ্ট্রীয়ভাবে অনেক দিবসই পালন হয়ে থাকে।

কিন্তু আজ পর্যন্ত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স¥রণে আলাদাভাবে কোন দিবস পালন হয়নি। স¦াধীনতার এতো বছর পরে এসেও রাষ্ট্রীয়ভাবে মুক্তিযোদ্ধা দিবস পালন হওয়া উচিত। অন্তত বীরদের স¥রণে রাখতে নতুন প্রজন্মকে জানানো উচিত। যদিও ২০০৪ সালের ১২ জানুয়ারি পল্টনে এক মহাসমাবেশে ডিসেম্বরের প্রথম দিনকে ‘মুক্তিযোদ্ধা দিবস’ ঘোষণার দাবি করেছিল সেক্টর কমান্ডার্স ফোরাম। ওই বছর থেকে সারাদেশে ১ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধা দিবস পালন করে আসছে তারা। সরকার যদি গেজেট করে একটা দিবস ঘোষণা করে তখন সেটা পালন করার বাধ্য-বাধকতা থাকে।

‘সরকারি ঘোষণা না থাকলেও পয়লা ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধা দিবস পালন করা হয়। একসময় যখন মুক্তিযোদ্ধারা থাকবেন না, তখনো যাতে তাঁদের স্মরণ করা হয়, সে জন্য মুক্তিযোদ্ধা দিবসটি সরকারিভাবে পালনের প্রস্তাব করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, সরকার যদি গেজেট করে একটি দিবস ঘোষণা করে, তখন সেটা পালন করার বাধ্যবাধকতা থাকে। তাই আমাদের প্রস্তাব মন্ত্রণালয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে তুলবে। মন্ত্রিসভা এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।’

অত্যন্ত দুঃখের সাথে বলতে হয় ২০২১ সালের ১৮ নভেম্বর এবং ২০২০ সালের ১৮ অক্টোবর জাতীয় সংসদের ‘মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে মুক্তিযোদ্ধা দিবস পালনের জন্য সুপারিশ করা হলেও আজ পর্যন্ত আলোর মুখে দেখেনি। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বা মুক্তিযোদ্ধাদের দেশ স্বাধীনতার ক্ষেত্রে যে অবদান রয়েছে এ বিষয় আমি পুনরাবৃত্তি করতে চাই না। তাদের ত্যাগ, অবদান মূল্যায়ন করা, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান করা, শ্রদ্ধা করা এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা মনে-প্রাণে লালন করা।

বীরদের সম্মানের ক্ষেত্রে যে শুধু ভাতা দেওয়া, আবাসন দেওয়া এমনটা নয়, এমনকি এটি শুধু যে সরকারের কাজ এমনটাও নয়। আমাদের জনগণের প্রত্যেকের নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্ব এবং কর্তব্য মনে করে কাজ করতে হবে। তা নাহলে একজন স্বাধীন নাগরিক হিসেবে দাবি করা বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ থাকতে হবে; মুক্তিযোদ্ধাদের মনে-প্রাণে ভালোবাসা, সম্মান ও মূল্যায়ন করাই হলো আমাদের কাজ। এ কাজের মাধ্যমে আমাদের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা থাকবেন।

তাদের স্মরণে রাখা এবং সম্মানে জায়গায় রাখতে অনেক পথ রয়েছে। একদিন মুক্তিযোদ্ধা থাকবে না, থাকবে শুধু স্মৃতি। মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণীয় করে রাখতে এমন প্রস্তাব হতে পারে যেমনÑ প্রতিটি উপজেলায় স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের অবদান নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ কমপ্লেক্সে ‘মুক্তিযুদ্ধের যাদুঘর’ তৈরি, প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুসহ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণ ও মুক্তিযুদ্ধের কর্নার করা, যদিও বঙ্গবন্ধুর কর্নার রয়েছে, উপজেলাভিত্তিক প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায় শিক্ষার্থীদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ করতে রণাঙ্গনে মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে ‘গল্পে গল্পে মুক্তিযুদ্ধ’ অনুষ্ঠানের সচেতন করা, প্রতিটি উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধাদের বাড়ির সামনে রাস্তার নামকরণ, বধ্যভূমিগুলো আধুনিকায়ন করে প্রকৃত ইতিহাস স্তম্ভ তৈরি করা, প্রতি মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায় স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের অগ্রাধিকার দিয়ে ‘মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস’ প্রকাশনা বের করা, প্রতি বছর মুক্তিযোদ্ধা দিবস রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন করা।

আগেই বলেছি তাদের অবদান স্মৃতি হিসেবে ধরে রাখতে আমাদের নিজ নিজ জায়গা থেকে এ কাজ করতে হবে। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতি ও অবদান ধরে রাখতে এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে ইতিহাস এবং মুক্তিযোদ্ধাদের অবদানের বিষয় জানাতে এর বিকল্প নেই। ২০১৪ সাল থেকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘আমরা মুক্তিযুদ্ধকে জানি’ নামে একটি গবেষনা প্রতিষ্ঠান থেকেও এ দাবি করে আসছে।

পরিশেষে বলতে চাই, মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে প্রতিশ্রুতির অভাব নেই, কিন্তু কাযর্কারিতা নেই। মুক্তিযোদ্ধারা গরিব হলেও আত্মসম্মান বোধসম্পন্ন তাদের করুনা/ভিক্ষার পাত্র করে রেখেছে রাজনৈতিক নেতারা হীনমন্যতার কারণে।

সব সরকারের এ যেন অলিখিত চুক্তি!! যে প্রতিশ্রুতি কাযর্কর/বাস্তবায়ন করা হবে না সে প্রতিশ্রুতি প্রদানের প্রয়োজন কি? মুক্তিযোদ্ধারা সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার জন্য মুক্তিযুদ্ধ করেনি, সুযোগ-সুবিধা দিলে সব মুক্তিযোদ্ধাকে সমভাবে দিন না হলে কাউকে নয়। নানা বৈষম্য সৃষ্টি করার দরকার নেই। ভিক্ষা/করুণার পাত্র বানানো সঠিক কাজ নয়। সম্মানীত করতে না পারেন অসম্মান করার প্রয়োজন কি?

লেখক: সাংবাদিক,কলামিষ্ট ও গবেষক। 

বিডিপ্রেস এজেন্সি/নুসহাই/অনিকেত

আরও পড়ুন...