নিজের জীবনযাপনে ইসলামী শরীয়া মোতাবেক আমূল পরিবর্তন

যে কারণে শাবানার ইসলামী জীবন যাপন!

আমিন আল আসাদ : দুনিয়ার কোন বস্তু হারাম নয়। হারাম পদ্ধতিতে করলে তা হারাম, আর হালাল পদ্ধতিতে করলে তা হালাল। যা কিছু হারাম তা স্পষ্ট নির্দিষ্ট করা আছে। কোন আবিষ্কৃত বস্তু যা সময়ের সাথে মানুষের জীবনে গুরুত্ব পূর্ণ, যেমন যে কোন বৈজ্ঞানিক আবিস্কার, তা মানুষ হারাম ভাবে ব্যবহার করলে তা হারাম। কিন্তু হালাল ভাবে ব্যবহার করলে তা হালাল।

আমার বন্ধু সাংবাদিক মেহেদি হাসান পলাশ লিখলেন, আমাদের কৈশর ও তারুণ্যের প্রিয় নায়িকা শাবানা। তার কতো ছবি যে দেখেছি কর গুণে বলা সম্ভব নয়। সব ধরণের চরিত্রে শাবানাই ছিলো প্রিয় নায়িকা। ছবিতে তার কান্না দেখে কতোবার যে অশ্রুপাত করেছি তারও ইয়ত্তা নেই। সেই নায়িকা হঠাৎ করেই চলচ্চিত্র থেকে বিদায় নিলে প্রথমে মানতে পারিনি। অবশ্য পরে যখন তার বিদায়ের কারণ জেনেছি তখন তার প্রতি ভালবাসা শ্রদ্ধায় পরিণত হয়েছে।

পত্রিকা মারফর জেনেছিলাম, যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী তার এক কন্যা বাড়ি থেকে চলে গেলে কোনোভাবে যখন আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না তখন তিনি মহান আল্লাহর কাছে মানত করেন যে, আল্লাহ যদি তার কন্যাকে ফিরিয়ে দেন তাহলে তিনি সিনেমার অভিনয় ছেড়ে দেবেন। এই ওয়াদার পর তার মেয়ে বাড়িতে ফিরে আসে। শাবানা সেই মুহুর্ত থেকে সিনেমার অভিনয় ছেড়ে দেন।

এমনকি অনেক অসমাপ্ত ও অর্ধ সমাপ্ত সিনেমাতেও তিনি অভিনয় করেননি। সাইন করা অনেক সিনেমার টাকা ফিরিয়ে দেন। এমনকি বেগম রোকেয়া শাখাওয়াতের মতো চরিত্রেও তিনি অভিনয় করেননি। সেই থেকে তিনি মেয়েদের সাথে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী হন। ইসলামী শরীয়া মোতাবেক নিজের জীবনযাপনে পরিবর্তন আনেন। সকল মিডিয়া থেকে সযত্নে দুরে থাকেন। দুয়েকটি সামাজিক অনুষ্ঠানে তাকে দেখা গেলেও পর্দানসীনভাবেই দেখা যায়।

সত্য মিথ্যা জানিনা, গণমাধ্যমে খবর দেখেছি, শাবানা ঘনিষ্ঠজনদের বলেছেন, চলচ্চিত্রে তার আগের অভিনয় দেখে তিনি নাকি লজ্জিত হন। রমজানে তার সিনেমা টিভি চ্যানেল ও হলে না চালাতে তিনি সকলকে অনুরোধ করেছেন ইত্যাদি। এসব কারণে তার প্রতি দেশবাসীর মনে ভিন্ন ধরণের একটি ভাবমূর্তি তৈরি হয়েছিল।‘’

আমি লিখলাম ‘’চলচিত্র একটি শক্তিশালী গণমাধ্যম। সিনেমাকে হারাম না বলে সিনেমায় প্রদর্শিত হারাম দৃশ্যকে হারাম বলা উচিত। হারাম দৃশ্য ছাড়াও চলচিত্র হতে পারে। মিশরের আল আজহার ও ইরানের কোম ফতোয়া দিয়েছে শরিয়তের দৃষ্টিতে স্বাভাবিক চোখে যে জিনিসের দেখা হারাম, তা সিনেমায় বা টেলিভিষনে দেখাও হারাম। আর শরিয়তের দৃষ্টিতে স্বাভাবিক চোখে যে জিনিসের দেখা হালাল, তা সিনেমায় বা টেলিভিষনে দেখাও হালাল।” এই ফতোয়ার ভিত্তিতে ইসলামী চলচিত্র নির্মাণ শুরু হয়। প্রথম ইসলামী সিনেমা হচ্ছে রাসুল ( সা) এর জীবন ভিত্তিক চলচিত্র ‘ দি মেসেজ ‘। এর পর ইরানের ইসলামী বিপ্লবের পর ইরান ইসলামি চলচিত্রে বিপ্লব ঘটিয়েছে। ইরানী সিনেমার অস্কার পাওয়াও কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারে নাই। অশ্লিলতা বেহায়াপনা ছাড়াও যে জীবন ভিত্তিক ও শৈল্পিক চলচিত্র নির্মাণ করা যায় তা ইরানই প্রথম দেখিয়েছে। তা ইরানের শত্রুু ও নিন্দুকেরাও স্বীকার করে। এছাড়া তুরস্ক সহ বিভিন্ন ইসলামী ও মুসলিম দেশ নির্মান করেছে বিভিন্ন ডকুমেন্টারি ফিল্মও সিরিয়াল।।

দুনিয়ার কোন বস্তু হারাম নয়। হারাম পদ্ধতিতে করলে তা হারাম, আর হালাল পদ্ধতিতে করলে তা হালাল। যা কিছু হারাম তা স্পষ্ট নির্দিষ্ট করা আছে। কোন আবিষ্কৃত বস্তু যা সময়ের সাথে মানুষের জীবনে গুরুত্ব পূর্ণ, যেমন যে কোন বৈজ্ঞানিক আবিস্কার, তা মানুষ হারাম ভাবে ব্যবহার করলে তা হারাম। কিন্তু হালাল ভাবে ব্যবহার করলে তা হালাল। শাবানা চলচিত্র ত্যাগ না করে বরং তিনি যদি ইরান, তুরষ্ক, মিশরকে অনুসরণ করে বাংলাদেশের চলচিত্রকে ইসলামী করন করার আন্দোলনে থাকতেন তবেই আমার মনে হয় ইসলামের বিরাট খেদমত হতো বলে আমি মনে করি।

কারণ তিনি ত্যাগ করলেই তো দুনিয়া থেকে সিনেমা শিল্প উঠে যাবে না। কেন একটি শিল্প ও গণমাধ্যমকে বেহায়াদের হাতে ছেড়ে দিয়ে নিজেকে এস্কেপ করতে হবে ( পলায়ন করতে হবে)। বরং তিনি যদি শুদ্ধি আন্দোলন শুরু করে সুন্দর সিনেমা শিল্প গড়ে তুলার আন্দোলনের ডাক দিতেন, তবে আমার মনে হয় বাংলাদেশের একজন সিনেমা আইডল হিসেবে লক্ষ লক্ষ ভক্তের তিনি সমর্থনও পেতেন।‘’

বিডিপ্রেস এজেন্সি/টিআই

আরও পড়ুন...