যেভাবে ব্যাংকে টাকা রেখে দ্বিগুণ করবেন

 

বিডিপ্রেস এজেন্সি ডেস্ক: প্রতিটি ব্যাংক তাদের ওয়েবসাইটে টাকা জমা রাখতে এফডিআরসহ বিভিন্ন বিকল্পের কথা তুলে ধরেছে। প্রায় সব ব্যাংকেরই টাকা দ্বিগুণ করার কর্মসূচিটি রয়েছে। সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের চেয়ে এফডিআর করলে একটি বাড়তি সুবিধা পাওয়া যায়, তা হলো এর বিপরীতে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ পাওয়া যায়।

বেসরকারি বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের ওয়েবসাইট ঘেঁটে দেখা যায়, এককালীন স্থায়ী আমানত (এফডিআর) রাখলে পূবালী ব্যাংকে ৮ শতাংশ সুদে টাকা দ্বিগুণ হয় ৯ বছরে। এফডিআরের টাকা দ্বিগুণ হতে ১২ বছর লাগে উত্তরা ব্যাংকে, এক্ষেত্রে ব্যাংকটি সুদের হার ৬ শতাংশ। প্রিমিয়ার ব্যাংকে সাড়ে ৭ থেকে ৮ বছরে দ্বিগুণ হয় এফডিআর। প্রাইম ব্যাংকে এফডিআর দ্বিগুণ হতে সময় লাগে সাড়ে ৮ বছর। ফার্মার্স থেকে নাম বদলে নতুনভাবে কার্যক্রম শুরু করা পদ্মা ব্যাংক ১০ বছরে দ্বিগুণ টাকা দেয়; ১৫ বছরে দেয়ার তিনগুণ দেয়ার প্রতিশ্রুতি রয়েছে ব্যাংকটির। আর ১০ শতাংশের বেশি সুদ দিয়ে ৭ বছরে টাকা দ্বিগুণ করে দেবে সাউথ বাংলা অ্যাগ্রিকালচারাল অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক।

এফডিআর করতে গেলে অনেক বেশি কাগজপত্রের দরকার হয় না, ঝামেলাও কম। দুই কপি পাসপোর্ট আকারের ছবি, জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্টের ফটোকপি যুক্ত করে আবেদনপত্র পূরণ করে দিলে ১ ঘণ্টার মধ্যেই কাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা।

তবে বর্তমানে সরকারি ব্যাংকগুলো দীর্ঘ মেয়াদে এফডিআর নিতে তেমন আগ্রহী না। জনতা, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংক ২ বছরের বেশি সময়ের জন্য এফডিআর করে না। এসব ব্যাংকে এ স্বল্পমেয়াদি এফডিআরে এ সুদের হার পড়ে ৫ থেকে ৬ শতাংশ। রূপালী ব্যাংক ৩ বছরের জন্যও এফডিআর করে। এ ক্ষেত্রে ব্যাংকটি ৫ থেকে সাড়ে ৫ শতাংশ সুদ দেয়।

কোনো ব্যাংকে গ্রাহক তার এফডিআর করবেন তা পছন্দ করতে হবে গ্রাহককেই। এক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখলে ব্যাংক পছন্দ করা সহজ হবে। যেমন ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ ও মন্দ ঋণের অবস্থা কেমন। ঋণ পুণঃতফসিলের ব্যাপারটি কেমন, গ্রাহক সেবার ক্ষেত্রে সন্তুষ্টির বিষয়টিও মাথায় রাখা দরকার। সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংক কেলেঙ্কারি বা টাকা পাচার বা ব্যাংকে ধস নামার প্রসঙ্গে অনেক বড় ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদে কারা আছেন, ব্যবস্থাপনায় কারা আছেন। এসব বিষয় বিবেচনা করলেই গ্রাহক তুলনামূলক ভালো ব্যাংকের তালিকা পেয়ে যাবেন।

দীর্ঘমেয়াদে এফডিআর রাখলে প্রথম দিন চুক্তির সময় যে সময় পরে টাকা দ্বিগুণ হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেবে ব্যাংক, তা হেরফের হওয়ার সুযোগ নেই। প্রতি মাসে টাকা জমা রাখার ক্ষেত্রেও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের সুযোগ নেই। প্রতি মাসে টাকা রাখার ক্ষেত্রে দুটি বিকল্প থাকে। একটিতে সুদের হার পুরোপুরি নির্ধারিত। অন্যটিতে পরিবর্তনের এখতিয়ার রাখে ব্যাংক। গ্রাহক যে মেয়াদেই টাকা রাখুক না কেন অবশ্যই প্রতিটি শর্ত তাকে জেনে নিতে হবে। না হলে পরে কোন কারণে ঝামেলা হলে ব্যাংক তার দায় এড়ানোর সুযোগ পাবে। গ্রাহককে বঞ্চিত হতে হতে পারে।

আগে ব্যাংকে টাকা রাখলে ৫ থেকে ৬ বছরেই তা দ্বিগুণ হতো। এখন ঋণের বিপরীতে ৯ শতাংশ ও আমানতের সুদ ৬ শতাংশ বেঁধে দেয়ার পর টাকা দ্বিগুণ হওয়ার সময়ও বেড়েছে।

বিডিপ্রেস এজেন্সি/মুক্তা

আরও পড়ুন...