ভূঞাপুরে মরুভূমির উট দেখতে মানুষের ঢল

মোঃ নাসির উদ্দিন,বিডিপ্রেস এজেন্সি,ভূঞাপুর : সৌদি আরবের মরুভূমির উট এবার টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে। এই উট একনজর দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন শত শত মানুষ। শুধু এ গ্রামের মানুষ নয়। আশে-পাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পরিবার পরিজন নিয়ে দেখতে ছুটে আসছেন। মরুভূমির এই উট স্ব-চোখে দেখতে পেরে আনন্দিত উৎসুক জনতা। উটকে যারা দেখতে আসছেন তাদের জন্য নিরাপত্তার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। ঈদের দিন কোরবানি হবে এ উট।

আলোচিত এই উটটি কোরবানি দেয়ার জন্য কিনছেন টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়নের বিলচাপড়া গ্রামের মৃত আইয়ুব আলী সরকারের ছেলে আব্দুল রশিদ সরকার (তুলা)। সে পেশায় একজন ঠিকাদার ও এবং কাবা’র পথে ট্যুরস ট্রাভেলস নামে একটি প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান ও ধর্মানুরাগী সমাজসেবক। গরীবের বন্ধু নামেও সকলের কাছে পরিচিত তিনি।

রশিদ সরকার বলেন- আমার বাবার স্বপ্ন ছিল উট কোরবানি করার। যেতে চেয়ে ছিলেন মদিনায় হজ পালনে। কিন্তুযেতে পারেনি। এদিকে, প্রতিবারের ন্যায় এ বছর আমিও হজ্জ্ব করতে যেতে চেয়েছিলাম। কিন্তু মহামারি করোনা ভাইরাসের কারণে তা সম্ভব হয়নি। তাই সেই অর্থদিয়ে অনেক কষ্টে উটটি কিনেছি। দামের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন- ইচ্ছে ছিল সৌদি থেকেই আনার। কিন্তু করোনার কারণে আনা যায়নি। এরপর দেশের সব বড় বড় হাট খোঁজাখুঁজি করে অবশেষে ঢাকার গাবতলী পশুর হাট থেকে এক ব্যবসায়ী থেকে ১১ লাখ ৫০ হাজার দিয়ে কেনা হয়।

গোপালপুর থেকে উট দেখতে আসা মো. রুবেল মিয়া বলেন- ফেসবুক, টিভি ও পাঠ্য বইয়ে অনেক দেখেছি, পড়েছি উটের গল্প। কিন্তু বাস্তবে দেখার সৌভাগ্য হয়নি। গত বুধবার দুপুরে ফেসবুকে একটি পোস্ট দেখে ভূঞাপুরের বিলচাপড়া গ্রামে ছুটে এসেছি উটকে এক নজর দেখার জন্য। আসলে মরুভূমির এই উট বাস্তবে দেখতে পাব কোনদিন স্বপ্নেও ভাবিনি। সত্যিই অনেক ভাল লাগছে।

সরেজমিনে বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সন্ধ্যায় গিয়ে দেখা যায়- মরুভূমির উটকে দেখতে শত শত মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন। সব বয়সি মানুষ উটের সাথে সেলফি ও ছবি উঠছে। কেউ ভিডিও নিচ্ছে। আবার কেউ কেউ ফেসবুক লাইভও করছে। মানুষ যেন কোন ধরণের বিশৃঙ্খলা না করতে পারে সেজন্যও করেছেন কড়া ব্যবস্থা।

রশিদ সরকারের সাথে কথা বলে আরও জানা গেছে- তিনি মনে করেন, তার এ উট কোরবানির গোস্ত সমাজসহ স্থানীয় প্রতিবেশীদের মাঝে বন্টন করবেন। উট দেখাশোনা ও খাবার ব্যবস্থার বিষয়ে তিনি বলেন- উটটিকে যে ব্যবসায়ীর থেকে কেনা হয়েছে সে পাকিস্তান থেকে গত ২ বছর আগে ৩ টি উট কিনে আনেন। পরে ২টি উট বিক্রি করেন। রয়ে যায় আরও একটি।

করোনার কারণে এ বছর ওই ১টি উট বিক্রি করতে না পেরে ক্রেতা সংকটে পড়ে দিশে হারা পড়ে ছিলেন। আর আমিও উট কেনার জন্য অস্থির ছিলাম। গত কয়েকদিন আগে কেনা হয়। এই উটটিকে মূলত প্রায় ৩ বছর লালন-পালন করেন তারা। গরুকে যে খাবার খাওয়ানো হয় সেগুলোই স্বাভাবিকভাবে উটকে খাওয়ানো হচ্ছে। এছাড়াও কোনবানির আগ পর্যন্ত লালন-পালন করার জন্যও ওই ব্যবসায়ীর একজন লোক নিয়মিত তার যতœ করছেন।

তিনি আরও বলেন- উট কোরবানির পাশাপাশি গরুও কোরবানি করা হবে। এ উটকে আমি প্রথমে প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ), আমার বাবা-মা, আমি ও স্ত্রী সন্তানদের নামে কোরবানি করব। চেস্টা করব প্রতি বছর একটি করে উট কোরবানি করার জন্য। এ জন্য সকলের কাছে দোয়া চাই।

বিডিপ্রেস এজেন্সি/এসএসএম

 

আরও পড়ুন...