বেশিরভাগ শিক্ষার্থীই ‘পরীক্ষা’ দিতে আগ্রহী

বিডিপ্রেস এজেন্সি ডেস্ক : করোনাভাইরাসের মহামারীর মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় পিছিয়ে যাচ্ছে শিক্ষার্থীরা। করোনাভাইরাসের মহামারীর মধ্যে একে একে পেরিয়ে যাচ্ছে শিক্ষাবর্ষ। মহামারীর পরিস্থিতিতে ২০২০ সালে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। শিক্ষার্থীদের জেএসসি আর এসএসসির ফলাফলের ভিত্তিতে দিয়ে দেওয়া হয় এইচএসসির ফলাফল। আর বাতিল করা হয় পিইসি ও জেএসসি পরীক্ষা।

করোনা পরিস্থিতির এখনও কোনো উন্নতি নেই, আর করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের ধাক্কা নিয়ে শঙ্কিত বিশেষজ্ঞরা। এমন পরিস্থিতিতে সামনে আরেকটি এসএসসি পরীক্ষার সময় এগিয়ে আসছে। সেই সঙ্গে সঙ্গে আসছে পরের বছরের এইচএসসি পরীক্ষার সময়ও। সেসব পরীক্ষা কি অনুষ্ঠিত হবে, নাকি এবারও স্থগিত হবে? এসএসসি ও এইচএসসি শিক্ষার্থীরা কী চান? তাদের অভিভাবকরা কী চান? এবিষয়ে শিক্ষাবিদদের মতামত কী? এ বিষয়গুলো জানার চেষ্টা করেছে চ্যানেল আই অনলাইন।

এসএসসি পরীক্ষার্থী শাফায়াত জামির সায়েম মনে করেন, বিগত পরীক্ষার ভিত্তিতে পরীক্ষার ফলাফল দিয়ে দিলে মেধার ঠিকমতো মূল্যায়ন বাধাগ্রস্ত হবে। তাতে হয়তো অনেকের অনেক ভালো প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়ার ইচ্ছে থাকবে কিন্তু ফলাফলের ভিত্তিতে তারা সেখানে ভর্তি হতে পারবে না। সেজন্য এই শিক্ষার্থীর পরামর্শ, খানিকটা প্রস্তুতির সময় দিয়ে পরীক্ষা নিয়ে নেওয়া উচিত। করোনা পরিস্থিতির কারণে এবছর এখনও স্কুলগুলোতে টেস্ট পরীক্ষা হয়নি। তাই ২ মাস পিছিয়ে, কিছুদিন ক্লাস নিয়ে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলেই শিক্ষার্থীদের জন্য ভালো হবে।

দুয়ারীপাড়া সরকারি মহাবিদ্যালয়ের এইচএসসি শিক্ষার্থী রওশন আরা অমি মনে করেন, অটো পাস নয়, পরীক্ষার নিয়েই ফলাফল দেওয়া উচিত। কারণ এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের সামনে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির একটি বিষয় থাকে। অটোপাস দিয়ে দিলে প্রস্তুতি সেভাবে নেওয়া হয় না। তাছাড়া এতে মেধার মূল্যায়নও হচ্ছে না। অনেকের প্রস্তুতি বেশি বা কম থাকতে পারে। অটোপাস দিয়ে সেটা বিবেচনার কেনো সুযোগ নেই।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে কিছুদিন ক্লাস করিয়ে পরীক্ষা নেওয়ার পক্ষে মত জানিয়ে পক্ষে এ শিক্ষার্থী বলেন, জুম অ্যাপে এখন ক্লাস হচ্ছে। কিন্তু তাতে সবাই ঠিকমতো অংশ নিতে পারে না। অনেক সময় কোনো প্রশ্ন থাকলেও করা যায় না। আবার যদি ক্লাসের ভিডিও আপলোড করা হয়, কোনোকিছু না বুঝতে পারলে কমেন্ট করলে রিপ্লাই দেরিতে পাওয়া যায়। এসব নানা সমস্যার কারণে কয়েকদিন ক্লাস নিয়ে তারপরে পরীক্ষা নেয়াই ভালো হবে শিক্ষার্থীদের জন্য।

শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের চাওয়ার বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের পরিচালক ড. সৈয়দা তাহমিনা আখতার বলেন, এভাবে অটোপাস দিয়ে দিলে শিক্ষার্থীর মূল্যায়ন হবে না, আবার করোনা পরিস্থিতির কারণে না দিয়ে কোনো উপায়ও থাকছে না। করোনার দ্বিতীয় ঢেউ যদি তীব্র হয়, তাহলে বিকল্প ভাবনা ভাবতেই হবে। তখন হয়তো এসএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য স্কুলগুলোতে টেস্ট পরীক্ষা নিয়ে সেই অনুযায়ী ফলাফল দিয়ে দিতে হবে।

বিডিপ্রেস এজেন্সি/টিআই

আরও পড়ুন...