বাংলাদেশ কমিউনিটি পুলিশের সভাপতিকে হত্যার হুমকি

বিডিপ্রেস এজেন্সি : বাংলাদেশ কমিউনিটি পুলিশের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এম এ কুদ্দুস শেখকে হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজী ও মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগে বহিষ্কৃত নোয়াখালী জেলা সভাপতি মোঃ জাফর ইকবাল ও তার অন্যতম সহযোগী দেলোয়ার হোসেন মোবাইল ফোনসহ নানা মাধ্যমে হত্যার হুমকি দেন বলে জানিয়েছেন এম এ কুদ্দুস।

ক্ষমতার অপব্যবহার, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজী মাদক ব্যবসাসহ নানা অপকর্মে জড়িত থাকার অভিযোগে বাংলাদেশ সন্ত্রাস প্রতিরোধ কমিউনিটি পুলিশের নোয়াখালী জেলা শাখার সভাপতি মো. জাফর ইকবালকে সম্প্রতি বহিষ্কার করা হয়। একই সাথে বিলুপ্ত করা হয় জেলা কমিটি। হত্যার হুমকির প্রেক্ষিতে এম এ কুদ্দুস তার নিরাপত্তা রক্ষায় হুমকির ঘটনায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়ার সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, অতিরিক্ত মহা পুলিশ পরিদর্শক (সিআইডি) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার বরাবর আবেদন করেছেন।

মোঃ জাফর ইকবালকে বাংলাদেশ সন্ত্রাস প্রতিরোধ কমিউনিটি পুলিশের নোয়াখালী জেলা কমিটি থেকে বহিষ্কার পত্রে উল্লেখ করা হয়েছিল, কমিউনিটি পুলিশের পদ পদবী ব্যবহার করে মো. জাফর ইকবাল (জাফর) সন্ত্রাস, চাঁদাবাজী ও মাদক ব্যবসাসহ সমাজ বিরোধী নানা কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পরায় গঠনতন্ত্রের ১০ ধারা মোতাবেক তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কার পত্রে আরো বলা হয়েছে গত তিন বছর নোয়াখালী জেলার সভাপতির দায়িত্বে থাকাকালীন সময় জাফর ইকবাল তার পরিবারের সদস্য ও কতিপয় ব্যাক্তির সমন্বয়ে সংঘবদ্ধ একটি চক্র গড়ে তোলেন।

এরা বাংলাদেশ সন্ত্রাস প্রতিরোধ কমিউনিটি পুলিশের নাম ব্যবহার করে মাদকদ্রব্য বেচা কেনা, চাঁদাবাজি, সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে অর্থ আদায়সহ প্রায় সকল ধরনের সমাজ বিরোধী কাজে জড়িয়ে পরেন। জাফর ইকবাল এবং তার লালিত বাহিনীর সন্ত্রাসীর কাছে জেলার বেগমগঞ্জ থানা এলাকার সাধারন মানুষ জিম্মি হয়ে পরেন। কেউ তাদের অপকর্মের প্রতিবাদ করলে ওই ব্যাক্তিকে সন্ত্রাসী চাঁদাবাজ আখ্যায়িত করে থানা পুলিশের হাতে তুলে দেন।

বেগমগঞ্জ থানা পুলিশও জাফর এবং তার সহযোগীদের অপকর্মের বিষয়ে অবহিত হয়ে একাধিকবার তাদের সংশোধনের সুযোগ দিয়েছেন। কিন্তু জাফর বাহিনী তাদের অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন। জাফর ইকবালের সমাজ বিরোধী নানা কর্মকাণ্ডের ঘটনায় নোয়াখালী জেলায় বাংলাদেশ সন্ত্রাস প্রতিরোধ কমিউনিটি পুলিশের ভাবমূর্তি নষ্ট হতে থাকে। এসব বিষয় নজরে আসার পর কমিউনিটি পুলিশের তদন্ত কমিটিও ঘটনার সত্যতা পায়।

এর পরই তাকে বহিষ্কার করা হয়। মো. জাফর ইকবালকে বহিষ্কারের সাথে সাথে তিনি যাতে বাংলাদেশ সন্ত্রাস প্রতিরোধ কমিউনিটি পুলিশের নামে ব্যবহৃত অফিস, সাইনবোর্ড, ব্যানার ও ভিজিটিং কার্ড ব্যবহার করতে না পারেন সেজন্য নোয়াখালী জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও বেগমগঞ্জ থানা পুলিশকে অনুরোধ করা হয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো কমিউনিটি পুলিশের কেন্দ্রীয় সভাপতি স্বাক্ষরিত পত্রে।

এম এ কুদ্দুস জানান, জাফর ইকবালকে বহিষ্কার ও জেলা কমিটি বিলুপ্ত করার বিষয়টি স্থানীয় পত্রিকা ও বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রচারিত হওয়ায় জাফর ইকবাল ও তার কমিটির অনতম সদস্য দেলোয়ার হোসেন তাকে নানাভাবে প্রলোভিত এবং বিভিন্ন মাধ্যমে ম্যানেজ করার চেষ্টা করেন। সব ধরনের চেষ্টা ব্যার্থ হওয়ায় জাফর ইকবাল ও দেলোয়ার ক্ষুব্ধ হয়ে একের পর এক হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন। তিনি তার জীবনের নিরাপত্তায় সংশ্লিষ্ট সকল মহলের সহায়তা চেয়েছেন।

বিডিপ্রেস এজেন্সি/টিএ

আরও পড়ুন...