বঙ্গবন্ধুকে ভালবেসে প্রতিকাপ চা ১ টাকায় বিক্রি করেন তিনি!

বিডিপ্রেস এজেন্সি ডেস্ক : আলম মোর্শেদ চান গ্রামের খেটে খাওয়া স্বল্প আয়ের মানুষ সকাল-বিকেল একসঙ্গে চা খেতে খেতে পরস্পরের খোঁজ-খবর নেবেন এবং বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে আলাপ-আলোচনা করবেন। এতে বঙ্গবন্ধুর প্রতি তাদের ভালোবাসা বাড়বে।

ভোলার দৌউলতখান উপজেলার চরপাতা ইউনিয়নের আলম মোর্শেদ (৬৭) জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ভালোবেসে গত ২০ বছর ধরে প্রতিকাপ চা মাত্র ১ টাকায় বিক্রি করছেন।

আলম মোর্শেদ ভোলা জেলার দৌলতখান উপজেলার চরপাতা ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের মৃত মুজিবুল হক ফরাজির ছেলে। তিনি ওই জায়গার নাম রেখেছেন “মুজিবনগর”।

মঙ্গলবার (১৬ মার্চ) মুজিবনগরে এক টাকার চায়ের দোকানে গিয়ে দেখা যায়, পাকা রাস্তার একপাশে ছোট দোকান, দোকানের সামনে কয়েকটি বেঞ্চ। দোকানটি চায়ের ফ্লাক্স ও মুদিপণ্যে সাজানো। বেশ কয়েকজন লোক চা পান করছেন।

কয়েকজনের মধ্যে চা পান করছিলেন মুজিবনগরের স্থানীয় বাসিন্দা মো. হাছনাইন। তিনি বলেন, “২০ বছর ধরে আলম মোর্শেদের দোকানে চা খাচ্ছি। বর্তমানে তার দোকানে দৈনিক ৫০০ কাপ চা বিক্রি হয়। আলম মোর্শেদ সবাইকে কম দামে ভালো চা খাওয়ান। তার উছিলায় এখন সবাই আমাদের গ্রামকে ‘মুজিবনগর’ নামে চেনে। এতে আমরা সবাই খুশি।”

এত কম দামে চা বিক্রির কারণ জিজ্ঞেস করলে আলম মোর্শেদ জানান, ব্যবসায় মুনাফা করা তার একমাত্র উদ্দেশ্য নয়। তিনি শেখ মুজিবুর রহমানকে ভালোবেসে এক টাকায় চা বিক্রি করেন। তার চাওয়া গ্রামের খেটে খাওয়া স্বল্প আয়ের মানুষ সকাল-বিকেল একসঙ্গে বসে চা খেতে খেতে পরস্পরের খোঁজ-খবর নেবেন এবং বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে আলাপ-আলোচনা করবেন। এতে বঙ্গবন্ধুর প্রতি তাদের ভালোবাসা বাড়বে। এ কারণেই সকাল-বিকেল শত শত লোক তার দোকানে চা খেতে আসেন বলেও জানান তিনি।

এত কম দামে চা বিক্রি করে সংসার চলে কীভাবে, জানতে চাইলে আলম মোর্শেদ জানান, ২০ বছর আগে দুই হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে জাঁকজমকভাবে ব্যবসা শুরু করেছিলেন। তখন চিনির দাম ছিল কম। ১ টাকায় চা বিক্রি করে প্রতি কাপে ভালো লাভ হতো। এখন চিনির দাম বেড়েছে, চা পাতার দামও অনেক বেশি। বর্তমানে নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক এলাকায় চা বিক্রি হচ্ছে পাঁচ টাকারও বেশি। এতে অনেক লোকসান গুনতে হয়। তারপরও তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এক টাকায় চা বিক্রি চালিয়ে যাবেন।

তিনি আরও জানান, তার স্ত্রী, ৫ ছেলে ও ২ মেয়ে রয়েছে। এর মধ্যে ২ ছেলে শ্রমিকের কাজ করেন। বাকিরা পড়াশোনা করে। বর্তমানে ‍ঋণগ্রস্থ হয়ে নিজের চিকিৎসাও করাতে পারছেন না।

স্থানীয় প্রশাসন ও সরকারের কাছে তার এখন একটাই দাবি, ওই এলাকার নাম যেন “মুজিবনগর” নামে সরকারিভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে স্থানীয় চরপাতা ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হেলাল উদ্দিন বলেন, “বঙ্গবন্ধুকে ভালোবেসে এমন উদ্যোগের বিষয়টি আমি জানি। মোর্শেদের জন্য আমরা গর্বিত।”

বিডিপ্রেস এজেন্সি/আই

আরও পড়ুন...