প্রথম দেশ হিসেবে ইসরাইলে টিকার চতুর্থ ডোজ দেয়ার পরিকল্পনা

বিডিপ্রেস এজেন্সি ডেস্ক : করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিচ্ছে ইসরাইল। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টের কারণে বুস্টার ডোজ হিসেবে টিকার তৃতীয় ডোজ দিচ্ছে। কিন্তু তার থেকে এক ধাপ এগিয়ে গিয়ে ইসরাইল টিকার চতুর্থ ডোজ দেয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে। যদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হয় তাহলে বিশ্বের মধ্যে করোনাভাইরাসের চতুর্থ ডোজ টিকা দেয়া প্রথম দেশ হবে ইসরাইল। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।

এতে বলা হয়েছে, ইসরাইলের মহামারি বিশেষজ্ঞরা সরকারকে সুপারিশ করেছে ৬০ বছরের বেশি বয়সী এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের চতুর্থ ডোজ টিকা দেয়ার। এ সুপারিশকে স্বাগত জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট। তিনি কর্মকর্তাদের এ জন্য প্রস্তুতি শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন।

মঙ্গলবার দেশটিতে ওমিক্রন আক্রান্ত হয়ে প্রথম একজন রোগী মারা যাওয়ার বিষয় নিশ্চিত করা হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, সেখানে ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত হয়েছে কমপক্ষে ৩৪০ জন।

টিকার চতুর্থ ডোজ বা বুস্টার ডোজ দেয়ার সিদ্ধান্ত এখনও সিনিয়র স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে।

তা সত্ত্বেও নাফতালি বেনেট বিবিসিকে বলেছেন, যারা তৃতীয় ডোজ টিকা নিয়েছেন, এই টিকা নেয়ার কমপক্ষে চার মাস পরে চতুর্থ ডোজ টিকা দেয়া যাবে বলে তিনি আশা করছেন। তিনি বলেন, এটা এক চমৎকার খবর যে, বিশ্বকে যখন গ্রাস করছে ওমিক্রনের নতুন ঢেউ তখন এ উদ্যোগ আমাদেরকে সাহায্য করবে। যত দ্রুত সম্ভব তিনি লোকজনকে এই টিকা নেয়ার আহ্বান জানান।

করোনাভাইরাসের টিকা বিষয়ক কর্মসূচি চালু করার পরই দ্রুততার সঙ্গে সেখানে তুলনামূলকভাবে উচ্চ গতিতে লোকজন টিকা নিয়েছেন। তা সত্ত্বেও দেশটির ৯৩ লাখ জনসংখ্যার মধ্যে শতকরা মাত্র ৬৩ ভাগ টিকার দুটি ডোজ নিয়েছেন। এর কারণ দেশটিতে তরুণ বা যুবকদের সংখ্যা বেশি। মোট জনসংখ্যার এক তৃতীয়াংশের বয়স ১৪ বছরের নিচে। এ পরিস্থিতিতে নভেম্বরে ঘোষণা দেয়া হয়, ৫ বছর বয়সীরাও টিকা নিতে পারবে।

সোমবার নাফতালি বেনেট বলেন, তিনি চান দুই সপ্তাহের মধ্যে টিকা নেয়ার বৈধ বয়সসীমার সব শিশুকে টিকা দেয়া শেষ হবে, যাতে আরেকটি শক্তিশালী ঢেউকে বিলম্বিত, ধীর এবং নস্যাৎ করে দেয়া যায়। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, ইতালি এবং কানাডায় ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ইসরাইল। উদ্দেশ্য করোনাভাইরাস সংক্রমণকে কমিয়ে আনা। মহামারি শুরুর পর থেকে সেখানে কমপক্ষে ১৩ লাখ ৬০ হাজার মানুষ আক্রান্ত হয়েছে করোনাভাইরাসে। মারা গেছে প্রায় ৮ হাজার ২০০ মানুষ।

বিডিপ্রেস এজেন্সি/টিআই

আরও পড়ুন...