পুরুষ তুমি যদি হও আজ বীর, এই মুকুট সেই জন্মদাত্রী নারীর অধীন

প্রতিকী ছবি 

আমরীন মেহবুবা সুলতানা : নারী দিবস বছরের একটি দিন পালিত হলেও এই দিবসের তাৎপর্য বছরের প্রত্যেকটা দিন সকল নারীর জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। নারীকে দুর্বল, কোমল আখ্যা দেওয়া পুরুষতান্ত্রিক সমাজের অনুপ্রেরণা এবং সাহসের প্রধান উৎস হলো নারী। সমাজে নারী নিজের অধিকার আদায়ের জন্য বহু বছর আগেই রাজপথে নেমেছে। একজন নারী অন্যায় কাজে লিপ্ত হলে, মানুষ নারী জাতিকে ধিক্কার দিতেও দ্বিধাবোধ করে না। কিন্তু নিজের মা-বোনও যে সেই জাতিরই অংশ সেটা ভেবে দেখার প্রয়োজন বোধ করে না।

মানুষকে তার লিঙ্গ অনুযায়ী নয়, মানুষকে মানুষ হিসেবে মূল্যায়ন করতে হবে। ভুলে যেও না আজ তুমি পুরুষ হয়ে জন্মগ্রহণ করেছ বলে, তুমি যা খুশি তা করতে পারো না। যেই নারীর প্রতি তুমি অবিচার অত্যাচার করছো ঠিক সেভাবেই তোমার মা বউ বোন কে তোমার মতোই কোন অমানুষ অত্যাচার করলে তুমি তা সহ্য করতে পারবে? তাদের চোখের পানি মুছে দেওয়ার অধিকারও যে তোমার নাই।” হে পুরুষ তুমি ধিক্কার দাও কাকে? যে মানুষের উপর অত্যাচার করেছো তাকে, নাকি যেই অমানুষ তোমার নিজের মানুষের উপর অত্যাচার করেছে তাকে?” বীরপুরুষ তো সেই মানুষ যার কর্মে বীরত্বের প্রতিফলন ঘটে। অন্যকে ছোট করে, অবহেলা অত্যাচার করে তুমি কখনোই বড় হতে পারবে না।

যদি নারী সমাজকে সম্মান করতে চাও তাহলে প্রথমে নিজের পরিবারের নারী সদস্যদের সম্মান করো। তাদের যথাসাধ্য সাহায্য, সম্মান এবং ভালোবাসতে শিখো। নিজেকে বদলাতে না পারলে সমাজ বদলানোর চেষ্টাই যে বৃথা হয়ে যাবে। কারণ যে পুরুষ নিজের মা বোন বউ কে সম্মান ও ভালোবাসা দিয়ে আগলে রাখতে পারে, সে কখনো অন্যের মা বোনের সম্মানহানি করতে পারে না। নারী সমাজ অবহেলিত হয় তখনই যখন পুরুষসমাজ অনাধিকার চর্চায় লিপ্ত হয়ে পড়ে। এই বৈষম্যের দেয়াল ভাঙতেই হবে, নারী পুরুষ এক হয়ে কাজ করতে হবে।

তাছাড়া মুক্তির পথ যেয়ে খুঁজে পাওয়া সম্ভব না। এতো উন্নত প্রযুক্তির যুগে বসবাস করেও একজন নারী ধর্ষণ হওয়াটা যে পুরো জাতির জন্য লজ্জাজনক, এই বোধটা কি এখনো মানুষের মধ্যে সৃষ্টি হয়নি? নারীকে মুক্তি পাওয়ার জন্য আর কত জুলুম অত্যাচার সহ্য করতে হবে। সমাজে পুরুষ এবং নারী কে তলোয়ার এবং ঢালের সাথে তুলনা করা যায়। কাজেই সমাজে একে অপরের পরিপূরক।

নারী নিজের অধিকার আদায়ের জন্য লড়বে কিন্তু কতকাল এই লড়াই চলবে আর কত নারীকে বলি হতে হবে? কলঙ্ক, সম্মানহানি কি কেবল নারীরই হয়, কখনোই না। কারণ কাপুরুষ মানুষ কখনো সম্মান নিয়ে সমাজে বসবাস করতে পারে না। কিছুসংখ্যক খারাপ মানুষের জন্য পুরো সমাজ ব্যবস্থাই এই ব্যধিতে ভুগছে। যার বলি হচ্ছে বহু মা বোন। যেই মাকে তুমি নিজের জীবনের চেয়েও বেশি ভালোবাসো, সেই মা তোমাকে যতই শাসন করুক না কেন সেই মায়ের উপর কি কখনো তুমি জুলুম-অত্যাচার করতে পারবে?

তাহলে একটা মেয়ে যেও একদিন মা হবে, তারও সন্তান তাকে নিজের জীবনের চেয়েও বেশি ভালবাসবে সেই মেয়ের জীবনটাকে নষ্ট করে দিতে কি তোমার একটুও লজ্জা বোধ করলো না? নিজের বোনের বয়সের মেয়েকে স্পর্শ করতে নিজের প্রতি ঘৃনা জন্মালো না? তুমি যদি আজ ধর্ষক না হতে তাহলে ওই মেয়েটা আজ ধর্ষিতা হতো না। তুমি যদি আজ তাকে আঘাত না করতে তাহলে তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন থাকত না।

তুমি যদি আজ নিজের বউয়ের উপর অত্যাচার না করতে তাহলে তোমার সন্তানদের তোমার প্রতি তীব্র ঘৃনা জন্মাতো না। ঘরের কাজের মেয়েটার প্রতি তুমি আজ অমানবিক অত্যাচার করছো? একদিন তোমার সবচেয়ে আদরের মেয়েটার উপরও মানুষ অত্যাচার করবে সেইদিন তুমি সহ্য করতে পারবে না। ভুলে যেও না পাপ কখনো পাপীকে ছাড়ে না।

নারী তোমার জীবনেরই অবিচ্ছেদ্য একটি অংশ। ঘৃণা নয়, ভালোবাসা নিয়ে বাঁচতে শেখো। নারীর অধিকার আদায়ে সকলকে এক হয়ে কাজ করতে হবে। তাহলে ভাঙবে বৈষম্যের ওই অদৃশ্য দেয়াল। তাহলে, কোন নারীকে আর জুলুম-অত্যাচারের কাছে বলি হতে হবে না। আর দুনিয়াতে যদি শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে তুমি নামো, তাহলে মনে রেখো তোমার থেকে তোমার মায়ের অবস্থান অনেক ঊর্ধ্বে থাকবে। আর ভুলে যেওনা তিনি তোমার জীবনের অঘোষিত রানী হলেও তার আসল পরিচয় সে একজন নারী।

লেখক : তরুণ কলামিস্ট।

বিডিপ্রেস এজেন্সি/টিআই

আরও পড়ুন...