পিছিয়ে যাচ্ছে কী সাত কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম?

ইসমাইল সম্রাট : ঢাকার ঐতিহাসিক ৭ টি সরকারি কলেজকে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশনায় শিক্ষার মান উন্নয়নের লক্ষে ২০১৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করা হয়। সেই থেকে আজ চার বছর হতে চললেও শিক্ষার কাঙ্খিত মান উন্নয়ন হয়নি। এর জন্য প্রথম দিকে দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের ততকালীন ভিসি আরিফ স্যার ও হারুন স্যারের পাল্টাপাল্টি নানান অভিযোগ শুনতে হয়, আর এর প্রেক্ষিতে আমরা ঐক্যবদ্ধ ছাত্র সমাজ নানা সময় নানা ইস্যুতে রাজপথে আন্দোলন করেছি। বলা যায় এই আন্দোলন করতে গিয়ে তিতুমীর কলেজের সিদ্দিকুর নামে এক শিক্ষাথীকে চিরতরে তার দুটি চোখ হারাতে হয় এবং এই বছর ২য় বর্ষের ফলাফল ভূল প্রকাশিত হওয়ায় বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের মিতু নামে এক শিক্ষার্থী আত্নহত্যা পর্যন্ত করে।

যার ফলে ছাত্র সমাজ আবারও রাজপথে জোড়ালো আন্দোলন গড়ে তুলে সাথে সাথে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় পর্যন্ত এর আওয়াজ তুলে দিতে সক্ষম হয়।বিভিন্ন সময় এই আন্দোলনের প্রেক্ষিতে আমরা ছাত্র প্রতিনিধিরা ৭ কলেজের বহুবিধ যুক্তিক দাবী নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও বর্তমান ভিসি স্যারের সাথে আলোচনায় মিলিত হই, এর ফলে ভিসি স্যার আমাদের সকল যুক্তিক দাবী মেনে নিতে বাদ্য হলেও তা অনেকাংশেই কার্যকর হয়নি তাই সমস্যা ও সমাধান হয়নি। এরই মধ্যে ডাকসু নির্বাচন শুরু হলে আমরা আশার আলো দেখতে পাই, কিন্তু সরকার ডাকসুতে অবস্থা বেগতিক দেখে অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আর ছাত্র সংসদ দিতে সাহস করেননি, যার ফলে এখানেও শিক্ষার্থীদের আশার আলো নিভে যায়।

আসল কথা হলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে ছাত্র সংসদ না থাকার কারণে ছাত্রদের সঠিক সমস্যা অনেকাংশেই সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা তুলে ধরতে সক্ষম হয় না, যার ফলে সমস্যা থেকেই যায়।বর্তমান সময়ে করোনার প্রকোপে সারা বিশ্ব স্তব্ধ তবুও এর মাঝে আমাদের শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে নিতে হবে। আর এই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে নিতে নানা কৌশলের কথা বলা হলেও, সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের নিয়ে দৃশ্যমান কোন আলোচনা হয় নি এখনো পর্যন্ত। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এই গা-ছাড়া অবস্থা দেখে সাত কলেজের প্রায় দেড় লাখ শিক্ষার্থী দিশেহারা।

যেখানে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় গুলো অনলাইনে তাদের ক্লাস পরিক্ষা নিচ্ছে সেখানে আমরা ঢাবির অধিভুক্ত হয়ে কি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের থেকেও পিছিয়ে থাকবো, এই পিছিয়ে যাওয়ার জন্য কি আমাদেরকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করা হয়েছে ? যদিও ইতিমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের MCQ পদ্ধতিতে পরিক্ষা নেয়ার কথা বলা হচ্ছে, এটা হয়তো বলা হচ্ছে ফলাফলের দীর্ঘসূত্রিতা কমাতে। আমাদের প্রশ্ন হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে কেন বলা হচ্ছে না অনলাইনে ক্লাস নেয়ার কথা আর শিক্ষার স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে নিতে কেন যুক্তিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে আমাদের দেড় লাখ শিক্ষার্থীর প্রশ্ন হলো, এই-যে মার্চ থেকে আগষ্ট পর্যন্ত পাঁচ মাস সময় আমাদের জীবন থেকে কেড়ে নিয়েছে এর জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের কি ভূমিকা ছিলো, তাদের কি কিছুই করার ছিলো না। এমনিতেই আমাদের শিক্ষা জীবন থেকে অনেক সময় নষ্ট হয়েছে তাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে আমাদের দেড় লাখ শিক্ষার্থীর আকুল আবেদন, আমাদের শিক্ষা জীবন থেকে একটু সময়ও যেন নষ্ট না হয় এবং নতুন কোন দুর্ভোগ পোয়াতে না হয়। আর এর জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও কলেজ প্রশাসনের সমন্বয় একান্ত প্রয়োজন।

তাহলে হয়তো মুক্তি মিলতে পারে আমাদের দেড় লাখ শিক্ষার্থীর। অনেক সময় দেখা যায় শিক্ষার্থীদের ছোট কোন একাডেমিক সমস্যা নিয়ে কলেজ প্রশাসনের কাছে গেলে তারা বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের যাও এটা আমাদের কাজ নয় এটা উনাদের কাজ, পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে ছুটে গেলে তারা বলে আরে এটাতো তোমাদের কলেজে করার কথা, তাই উপায় অন্ত না দেখে ঐ শিক্ষার্থী আরার নিজ কলেজে ছুটে আসে।

এভাবে প্রতিনিয়ত শতশত শিক্ষার্থীকে হয়রানি আর অবহেলার শিকার হতে হচ্ছে, এখন আমাদের প্রশ্ন হলো এই কাজ গুলো সুনিশ্চিত ভাবে ভাগ করে নিতে পারে না দুই পক্ষ তাহলে এর সঠিক সমাধান আসতে পারে। যেখানে ৪ বছর হতে চলেও একাডেমিক সমস্যাগুলোর সঠিক সমাধান দিতে ব্যার্থ হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সেখানে শিক্ষার গুণগত মান কিভাবে নিশ্চিত হবে। তাই সবাইকে আরও একটু আন্তরিক হওয়ার জন্য একান্তই অনুরোধ করা হচ্ছে, তানা হলে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন করা কখনো সম্ভব হবে না।

লেখক : ছাত্র, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ (১৪-১৫) সেশন, ঢাকা কলেজ।

বিডিপ্রেস এজেন্সি/এসএসএম

 

আরও পড়ুন...