পাপুলের স্ত্রী-কন্যা নথিপত্র জালিয়াতি করে জামিন চেয়েছিলেন

 

বিডিপ্রেস এজেন্সি ডেস্ক : অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচারের অভিযোগে করা মামলায় কুয়েতে গ্রেফতার হন লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) কাজী শহিদুল ইসলাম পাপুল। একই মামলায় পাপুলের স্ত্রী সংসদ সদস্য সেলিনা ইসলাম ও মেয়ে ওয়াফা ইসলাম হাইকোর্টে আগাম জামিন চেয়ে আবেদন করেন। এই জামিন আবেদনের সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগ থেকে অব্যাহতির নথি হাইকোর্টে দাখিল করা হয়। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকের নথি তলবের পর পাপুলের স্ত্রী-কন্যার জামিন নিতে আসা নথিতে ধরা পড়ে ‘জালিয়াতি’।

পাপুলের স্ত্রী-কন্যার জামিন আবেদনের নথি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, জামিন চেয়ে তাদের পক্ষ থেকে যে আবেদন করা হয়েছিল, সেটিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি প্রতিবেদনের বর্ণনা তুলে ধরা হয়েছে। কিন্তু সেই প্রতিবেদনে বাংলাদেশ ব্যাংকের উপ-পরিচালক মো. আরেফিন আহসান মিঞার কোনও স্বাক্ষর ছিল না। স্বাক্ষরের জায়গায় ‘স্বাক্ষর অস্পষ্ট’ লেখা রয়েছে। আর প্রতিবেদনটি স্বাক্ষরের তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে ২০২০ সালের ৯ জুলাই। তবে এ ধরনের প্রতিবেদন জামিন আবেদনের সঙ্গে পৃথকভাবে সংযুক্ত করার নিয়ম থাকলেও সেই নিয়মের অপব্যবহার করা হয়েছে।

এদিকে প্রতিবেদনটির বিষয়ে অসঙ্গতি দেখা দেওয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে মূল নথি তলব করেছিলেন হাইকোর্ট। ওই নির্দেশনার ধারাবাহিকতায় পাপুলের স্ত্রী-কন্যার বিষয়ে তদন্তের মূল প্রতিবেদন দাখিল করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংকের দেওয়া নথি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, নথিতে ২০২০ সালের ১৯ জুলাই মো. আরেফিন মিঞার স্বাক্ষর রয়েছে। আবার জালিয়াতির নথিতে ‘সার্বিক মতামত’ অংশে পাপুলের স্ত্রী-কন্যাকে দায়মুক্তি দেওয়াসহ বিস্তারিত বর্ণনা থাকলেও বাংলাদেশ ব্যাংকের মূল নথিতে রয়েছে মাত্র দুই লাইনের মন্তব্য। মূলত, এই অংশে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে নিজেদের দায়মুক্তি দিয়েছেন পাপুলের স্ত্রী-কন্যা!

পাপুলের স্ত্রী-কন্যার জামিন আবেদনের নথিতে দেওয়া প্রতিবেদনে ‘সার্বিক মতামত’ অংশে বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, ‘পরিদর্শনে প্রাপ্ত তথ্যাদি পর্যালোচনায় দেখা যায় যে, এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক হাতিরপুল শাখার গ্রাহক জেসমিন আক্তার এফডিআর-এর বিপরীতে দুটি ঋণ নিয়েছেন এবং তা ইতোমধ্যে পরিশোধ করেছেন। এখানে উল্লেখিত এফডিআর-এর টাকার উৎস এবং ঋণের টাকা ব্যবহারের ব্যাপারে সঠিক ধারণা পাওয়া যায়। আলোচ্য ক্ষেত্রে মানি লন্ডারিং সংঘটিত হতে পারে মর্মে প্রতীয়মান হয়নি। অতএব, উক্ত অভিযোগটি এই বিভাগের তরফ থেকে নথিভুক্তির মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা যেতে পারে।’

অথচ বাংলাদেশ ব্যাংকের মূল প্রতিবেদনের ‘সার্বিক মতামত’ অংশে বলা হয়েছে, ‘পরিদর্শনে প্রাপ্ত তথ্যাদি পর্যালোচনায় দেখা যায় যে, এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক হাতিরপুল শাখার গ্রাহক জেসমিন আক্তার এফডিআর-এর বিপরীতে দুটি ঋণ নিয়েছেন এবং তা ইতোমধ্যে পরিশোধ করেছেন।’

নথি টেম্পারিং তথা জালিয়াতির বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে সংশ্লিষ্ট কোর্টের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমাদের কাছে নথি জালিয়াতির বিষয় উঠে এসেছে। বিষয়টি সোমবার (২৫ জানুয়ারি) বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি শাহেদ নুর উদ্দিনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চের সামনে তুলে ধরা হবে।’

প্রসঙ্গত, অর্থ ও মানবপাচারের অভিযোগে কুয়েতে গ্রেফতার হন সংসদ সদস্য শহিদ ইসলাম পাপুল। বর্তমানে তিনি কুয়েতের কারাগারেই আছেন। ২০২০ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি পাপুলের বিরুদ্ধে মানবপাচারসহ জ্ঞাত আয়বহির্ভূত উপায়ে শত শত কোটি টাকা অর্জন করে হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক। এরপর পাপুল ও তার স্ত্রীসহ চার জনের ৬১৭টি ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ এবং ৯২টি তফসিলভুক্ত স্থাবর সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ দেওয়া হয়।

এরপর গত ১১ নভেম্বর দুদকের উপ-পরিচালক মো. সালাহউদ্দিন বাদী হয়ে দুই কোটি ৩১ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ ও ১৪৮ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম পাপুল, তার স্ত্রী সংরক্ষিত আসনের এমপি সেলিনা, মেয়ে ওয়াফা ইসলাম এবং শ্যালিকা জেসমিন প্রধানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় আগাম জামিন চেয়ে পাপুলের স্ত্রী-কন্যা হাইকোর্টে আবেদন জানিয়েছিলেন।তথ্যসূত্র- বাংলা ট্রিবিউন।

বিডিপ্রেস এজেন্সি/টিআই

আরও পড়ুন...