দাম বাড়তি, তবুও মিলছে না সয়াবিন তেল

বিডিপ্রেস এজেন্সি,ঢাকা : দাম বাড়তি, তবুও মিলছে না সয়াবিন তেল। রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে তেল নিয়ে তেলেসমাতি চলার অভিযোগ তুলেছে সাধারণ মানুষ। খুচরা দোকানিরা বলছেন, তারা ডিলারের কাছে চাহিদামতো তেল পাচ্ছেন না। আর ডিলাররা বলছেন, কোম্পানি তাদের তেল সরবরাহ করছেন না। আর ভোক্তারা বাজারে গিয়ে তেল পাচ্ছেন না।

শুক্রবার রাজধানীর কাওরান বাজার, নিউমার্কেট ও হাতিরপুল বাজার ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ দোকানে সয়াবিন তেল নেই কিছু দোকানে এক বা দুই লিটারের বোতল অল্প পরিমাণে পাওয়া গেলেও দাম বেশি। আর পাঁচ লিটারের বোতল বাজারে পাওয়া যাচ্ছে না।

ঈদুল ফিতরের আগে থেকে সয়াবিন তেলের দাম বাড়ছে এমন গুজব বাজারে ছড়িয়ে পড়ে। তারপর ব্যবসায়ীরা তেল গুদামে লুকিয়ে রাখে। ভোক্তা অধিদফতরের অভিযানে কাওরানবাজারসহ বিভিন্ন বাজারে দোকানের ভেতর লুকিয়ে রাখা কয়েক হাজার বোতল উদ্ধার হয়।

ঈদের পরও একই অবস্থা বিরাজ করছে। শুক্রবার রাজধানীর কলাবাগান থেকে কাওরান বাজারে এসেছিলেন সাজ্জাদ হোসেন নামে এক ক্রেতা। তিনি একটি রেস্টুরেন্টে চাকরি করেন। সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘ঈদের আগ থেকেই তেল পাচ্ছি না। তাই বাধ্য হয়ে কাওরান বাজারে এসেছি। এখানেও তেল পাচ্ছি না।’

এদিকে কাওরান বাজারের কয়েকটি দোকান ঘুরেও তেলের দেখা মেলেনি। হাজি মিজান এন্টারপ্রাইজের এক বিক্রেতা বলেন, ‘ঈদের দুইদিন আগ থেকেই তেল নেই। ক্রেতা তেল কিনতে আসছেন, কিন্তু আমরা দিতে পারছি না।’

মাসুদ জেনারেল স্টোরের গিয়ে দেখা যায়- তার দোকানে সয়াবিনের এক লিটারের বোতল আছে। কিনতে চাইলে বিক্রেতা বলেন, ‘এটা বাসায় ব্যবহারের জন্য রেখেছি। বিক্রি করা যাবে না। তাহলে ডিসপ্লে রেখেছেন কেন-এমন প্রশ্নের তিনি কোনো উত্তর দেননি।’তবে কুমিল্লা জেনারেল স্টোরে দেখা মিললো সূর্যমুখী তেল। ৫ লিটার সূর্যমুখী তেলের দাম ১ হাজার ৬০০ টাকা।

শুক্রবার কাওরান বাজারের মেসার্স ছিদ্দিক এন্টার প্রাইজে গিয়ে দেখা যায়- মার্কেটের খুচরা দোকানদের ভিড়। এখানে মার্কেটের ব্যবসায়ীদের কাছে পুষ্টি তেল বিক্রি করা হচ্ছে। অর্থাৎ পাইকারি দরে পুষ্টি পাঁচ লিটারের বোতল ৭৪০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু দোকানরা চাহিদা অনুযায়ী তেল পাচ্ছেন না। কেউ পাঁচ লিটারের দুই কার্টন তেল চাইলে তাকে দেওয়া হচ্ছে এক কার্টন। (২০ কেজিতে এক কার্টন)।

মেসার্স ছিদ্দিক এন্টার প্রাইজ থেকে খুচরা ক্রেতাদের তেল দেওয়া হচ্ছে না। আবার মার্কেটের যেসব খুচরা ব্যবসায়ী পাইকারি দরে তেল কিনে নিয়ে যাচ্ছেন তারাও খুচরা বিক্রি করতে চাচ্ছেন না। কারণ হিসেবে তারা বলছেন-‘আমি এক কার্টন পেয়েছি। আমাদের বাধা কাস্টমারদের কাছ থেকে আগাম টাকা নেওয়া আছে। তাদের দিতে হবে।’

মেসার্স ছিদ্দিক এন্টার প্রাইজে তেল বিক্রির দায়িত্বে থাকা নিজাম উদ্দিন জানান, পুষ্টি কোম্পানি আমাদের ২০০ কার্টন মাল দিয়েছে। ভোক্তা অধিদফতর থেকে এই তেল মার্কেটের দোকানদার দিতে বলা হয়েছে। কিন্তু খুচরা কাস্টারমাররা ভিড় করছে। এখন আমরা দোকানদের দেব নাকি কাস্টমারদের দেব।

আমাদের চাহিদা প্রতিদিন ৫ হাজার কার্টন, সেখানে পেয়েছি আমি ২০০ কার্টন। এখন আমি বাকি মাল কোথায় পাবো। তীর কোম্পানি মাল দেয় না, ফ্রেস কোম্পানি মাল দেয় না, রূপচাঁদা কোম্পানি মাল দেয় না। শুধু পুষ্টি কোম্পানি মাল দিয়েছে। আজকে কোম্পানির রেটে অর্থাৎ ৭৪০ টাকায় মাল বিক্রি করছি।

এর আগে, বৃহস্পতিবার (৫ মে) বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন বৃহস্পতিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে তেলের নতুন দাম নির্ধারণ করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে তারা জানায়, খুচরা বাজারে খোলা সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটার ১৮০ টাকা, বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৯৮ টাকা ও পাম সুপার ১৭২ টাকা করে নির্ধারণ করা হয়েছে। আজ শুক্রবার (৬ মে) থেকে এই দাম কার্যকর হবে।

বিডিপ্রেস এজেন্সি/টিএ

আরও পড়ুন...