জান্তার ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতি ২ বছরের মধ্যেই

বিডিপ্রেস এজেন্সি ডেস্ক : মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন সামরিক সরকার আগামী দুই বছরের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিতের কথা জানিয়েছে। এর মাধ্যমে সেনা সরকার প্রথমবারের মতো দুই বছরের মধ্যে নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতি দিল।

গত ১ ফেব্রুয়ারি সেনা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করে সেনাবাহিনী। তাদের অভিযোগ ছিল গত নভেম্বরের নির্বাচনে অং সান সু চির `লীগ ফর ডেমোক্রেসি‘ ব্যাপক জালিয়াতি করে জয় লাভ করেছে। তারা জরুরি শাসন জারি করে। মিয়ানমারের সাধারণ জনগণ সেনা অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু করে।

রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, বিক্ষোভ জোরালো হওয়ার পর সামরিক সরকারের পক্ষ থেকে নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিকভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও এর আগে কোনো সময়সীমা জানানো হয়নি।

শুক্রবার সামরিক সরকারের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জাও মিন তুন রাজধানী নেপিদোয় এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, মিয়ানমার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসছে। শিগগিরই সরকারি মন্ত্রণালয় ও ব্যাংকগুলো তাদের সম্পূর্ণ কার্যক্রম শুরু করবে। সেনা অভ্যুত্থানের পর থেকেই দেশজুড়ে লাগাতার বিক্ষোভ ও ব্যাপক ধর্মঘটের কারণে সব কিছু স্থবির হয়ে পড়েছে।

সামরিক সরকারের মুখপাত্র জাও মিন তুন বলেন, ‘যারা শান্তি চান, তাদের সহযোগিতার কারণে বিক্ষোভ থামানো হয়েছে। তাদের মতামতকে আমরা মূল্য দেই। আমরা সবাইকে নিরাপত্তা বাহিনীকে সহযোগিতা করার জন্য অনুরোধ করছি।’

দেশটিতে বিক্ষোভকারীদের দমাতে সামরিক অস্ত্র ব্যবহারের খবরকে অস্বীকার করেছেন তিনি। তিনি জানান, ২৪৮ জন নিহত হয়েছেন। ১৬ জন পুলিশও মারা গেছেন।

জাও মিন তুন আরও বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কিছু সদস্য সামরিক সরকারকে স্বীকৃতি দেয়নি, এটি একটি ভুয়া খবর। আমরা বিদেশি দেশগুলোকে সহযোগিতা করছি, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে একত্রে কাজ করছি।’

মিয়ানমারের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, শুক্রবার বাগো শহরে সেনাবিরোধী বিক্ষোভকারীদের ওপর রাইফেল গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয়। এতে অন্তত ১০ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তাদের মরদেহ স্তূপাকারে প্যাগোডাতে রাখা হয়।

মিয়ানমার নাও নিউজের খবরে বলা হয়েছে, শুক্রবার বিক্ষোভে কমপক্ষে ২০ জন নিহত হয়েছেন। অনেকেই আহত হয়েছেন। প্যাগোডার কাছাকাছি এলাকা সেনাবাহিনী ঘিরে রেখেছিল বলে মরদেহের সঠিক সংখ্যা জানা সম্ভব হয়নি।

অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনারস (এপিপিপি) জানায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত নিরাপত্তা বাহিনীর হামলায় ৪৮ শিশুসহ অন্তত ৬১৪ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া দেশটিতে ২ হাজার ৮০০ জনেরও বেশি আটক আছেন।

বিডিপ্রেস এজেন্সি/আই

আরও পড়ুন...