ছেলের বিরুদ্ধে বাবার সংবাদ সন্মেলন, প্রাণনাশের হুমকী

বিডিপ্রেস এজেন্সি : শাররিক ও মানুষিক নির্যাতন,মিথ্যা মামলায় হয়রানী,অর্থ আত্বসাৎ,বাড়ি থেকে বের করে দেয়া,প্রাণনাশের হুমকীর মুখে অতিষ্ট বাবা জীবনের নিরপত্তা চেয়ে ছেলের বিরুদ্ধে সংবাদ সন্মেলন করেছে। জামালপুর পাবলিক লাইব্রেরী মিলনায়তনে মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে সংবাদ সন্মেলনে ছেলে জাকির হোসেন জুয়েলের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করেন সাইদুর রহমান দুদু নামে এক পল্লী চিকিৎসক। তিনি তার লিখিত অভিযোগ করার সময় কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, আমি একজন হতভাগা বাবা অতিষ্ঠ হয়ে ছেলের বিরুদ্ধে সংবাদ সন্মেলনে অভিযোগ করতে বাধ্য।

ছেলেকে উচ্চ শিক্ষা শিক্ষিত করার জন্য এইচএসসি পাশ করার পর ঢাকায় প্রাইভেট ইউনিভাসিটিতে ভর্তি করি। ঢাকায় লেখাপড়ারত অবস্থায় লোকজনকে চাকুরী ও বিদেশে পাঠানোর কথা বলে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়ে দুবাই চলে যায় এবং আমাদের সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। ছেলের প্রতারনার শিকার ভুক্তভুগি লোকজন আমিসহ আমার পরিবারের উপর টাকার জন্য চাপ প্রয়োগ করলে র্দীঘদিন পালিয়ে বেড়িয়ে মানবেতর জীবন ঝাপন করতে হয়। এসময় নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসার অভাবে আমার স্ত্রী ফাতেমা বেগম মৃত্যুবরন করে।

তিনি আরো বলেন, ছেলের টাকা আত্বসাৎ এর কারনে জামালপুর পাবনায় দায়ের হওয়া প্রতরনার মামলায় ছেলে জুয়েলের আমিও আসামী হই। ওই মামলায় জামালপুর ও পাবনায় আমাকে জেল হাজতে খাটতে হয়। পরে আমার দোকান মার্কেট ও কৃষি জমি বিক্রি করে আংশিক টাকা পরিশোধ করি। দুবাই থেকে ফিরে এসে ফের মানুষ ঠকানোর খেলায় নেমে পড়ে জুয়েল। এক পর্যায়ে আমিসহ আমার পরিবারের লোকজন  তার হাত থেকে রেহায় পাচ্ছেনা। আমার শেষ সম্ভল গ্রামের বাড়ি মেলান্দহের  ও জামালপুর শহরের বাড়ি লিখে নেয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করে। লিখে না দেয়ার আমার বিরুদ্ধে কাজের মেয়েকে বাদি করে নারী নির্যাতনের মিথ্যা মামলা করে হয়রানী করে আসছে। এখানেই ক্ষান্ত হয়নি, ভাড়াটে সন্ত্রাসী সাথে নিয়ে আমিসহ আমার পরিবারের অন্য

সদস্যদের মারধর করে শহরের যোগীরঘোপা বাড়ি থেকে বের করে দেয়। এ বিষয়ে জামালপুর সদর থানায় সাধারন ডায়েরি করি। এলাকাবাসীর সহযোগীতায় তালা ভেঙ্গে বাসায় প্রবেশ করি। আমাকে মৃত দেখিয়ে জাল দলিল করে গ্রামের বাড়ি মেলান্দহের মাহমুদপুরের জমিতে মালিকানা দাবি করে নিজ নামে সাইনবোর্ড টানিয়ে দেয় জুয়েল। আমার মেঝু ছেলে সফিক হাসান জনির বসুন্ধরার ফ্লাট জুয়েলের নামে লিখে দেয়ার জন্যও হুমকী ধামকীর এক পর্যায়ে নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে। এ বিষয়ে আমি প্রতিবাদ করায় দ্বিতীয় দফায় আমাকে মারধর করে। গ্রামের বাড়ি মাহমুদপুর ও জামালপুর শহরের জমি এবং ঢাকায় বসুন্ধরার ফ্লাট লিখে না দিলে আমিসহ আমার পরিবারের অন্য সদস্যদের প্রাণে মেরে ফেলার হুমকী দিয়েছে। চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছি।

স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি ছেলের অত্যচার ও নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষা ও জীবনের নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছে হতভাগা এই পিতা। অভিযুক্ত জাকির হোসেন জুয়েল আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সাবেক সহ-সম্পাদক। বর্তমানে বিমানবন্দর থানা আওয়ামীলীগের তথ্য ও গবেষনা সম্পাদকের পদে রয়েছেন। জাকির হোসেন জুয়েলের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তার বিরুদ্ধে বাবার অভিযোগ প্রসঙ্গে বলেন, আমার বাবা আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ এনেছেন তা মিথ্যা,বানোয়াট,ভিত্তিহীন ও ষড়যন্ত্রমুলক।

বিডিপ্রেস এজেন্সি/টিএস

আরও পড়ুন...