কুমিল্লার মানুষের হৃদয়ে বেঁচে আছেন মনিরুল হক চেয়ারম্যান

চেয়ারম্যান মনিরুল হক। 

ওসমান গনি  : ক্ষণজন্মা এ পৃথিবীতে নিয়তির নিয়ম অনুযায়ী মানুষের জন্ম ও মৃত্যু হচ্ছে। তারপরও কিছু কিছু মানুষ মরেও অনন্ত কাল বেচে থাকেন মানুষের হৃদয়ের মাঝে। আমরা দেখেছি এ পৃথিবীতে শত শত বছর পূর্বে মানুষ মরে গিয়েও আজও তারা তাদের মহৎ কর্মের কারন বেচে আছেন মানুষের হৃদয়ে। তারা পৃথিবীতে জীবিত থাকাকালীন সময়ে এমন কিছু কর্ম করে গেছেন যার জন্য তারা আজ দেশ ও জাতির কাছে স্মরণীয় ও বরণীয় হয়ে আছেন। এ পৃথিবীতে সৃষ্টি হয়েছে তাদের জীবিতকালীন সময়ের কর্মের ইতিহাস। যুগ যুগ ধরে জাতি তাদের স্মরণ করছে। এ মধ্যে হয়ত কেউ পৃথিবী জুড়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন স্মরণীয় ও বরণীয় হয়ে আছেন। তাদের বৃহৎ কর্মের কারনে সারা পৃথিবী আজ তাদের স্মরন করছে। আবার কেউ কেউ হয়তো নির্দিষ্ট সীমা, গন্ডি ও ভৌগলিক অবস্থানের মধ্যে জীবিতকালীন সময়ে এমন মহৎকর্ম করে গেছেন তারাও তাদের কর্মের কারনে বৃহৎ আকারে না হলে ও ঐ এলাকার প্রতিটি মানুষের মনে চিরস্মরণীয় ও বরণীয় হয়ে থাকেন।

তাদের নিয়েও স্থানীয় লেখকরা লিখে থাকেন তাদের কর্মজীবনের ইতিহাস। এমন ই এক মহৎপ্রাণ ক্ষণজন্মা ব্যক্তি হলেন কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব জনাব মনিরুল হক ( মনু চেয়ারম্যান) । যার জন্ম হয়েছিল ১৯৪৩ সালের ৪ এপ্রিল উপজেলার মাইজখার ইউনিয়নের মেহার গ্রামের এক সম্রান্ত মুসলিম পরিবারে। তার বারা মৃত আবিদ আলী। পরিবারে এক ভাই ও দুই বোন ছিলেন। জনাব মনিরুল হক লেখাপড়া শেষ করে চট্টগ্রাম ও বরিশাল ভোলা চাকরি করেন। চাকরি করাকালীন সময়ে তিনি বাড়িতে এলে এলাকার সকল শ্রেনিপেশার মানুষের সুখদুঃখের খোঁজখবর নিতেন সামর্থ্য অনুযায়ী মানুষ কে সাহায্য সহযোগীতা করতেন। এলাকার লোকজন তার এই মহানুভবতা দেখে তাকে তার চাকরি থেকে ইস্তফা দিয়ে ১৯৭৩ সালে স্বাধীন দেশের প্রথম ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মাইজখার ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করে জনগনের ভোটে সকল প্রার্থী কে পরাজিত করে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

এরপর রাজনৈতিক জীবনে তাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। একটানা তিনি উক্ত ইউনিয়নে ১৮ বছর চেয়ারম্যান ছিলেন। তার চেয়ারম্যান থাকাকালীন সময়ে তিনি জেলা, উপজেলা ও কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে এমন সুস্পর্ক গড়ে তুলেছেন যার কারনে রাজনৈতিক অঙ্গনে দিন দিন তার জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে। তার নির্বাচনী এলাকার তৃণমূল মানুষের সাথে রয়েছে সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্ক। রাতদিন নাই যখনি তিনি শুনেছেন মানুষের বিপদাপদের কথা স্বশরীরে সেখানে গিয়ে তিনি হাজির হয়েছিলেন। যার কারনে চান্দিনার প্রতিটি প্রতিটি পরিবারের সাথে ছিল তার সম্পর্ক। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর একজন আদর্শের পরীক্ষিত সৈনিক ছিলেন। তিনি তার রাজনৈতিক জীবনে সকল লোভ লালসার উবর্ধে থেকে কাজ করছেন। তার আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা দেখে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে থেকে তাকে সাংসদ বানানোর প্রস্তাব ও দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি কোনদিন নিজের দলীয় আদর্শ কে বিসর্জন দেননি। জাতীয় পাটি ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় একবার জাতীয় পাটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী বর্তমানে প্রয়াত কাজী জাফর আহমেদ তাকে কুমিল্লার ময়মামতি ক্যান্টনমেন্টে ডেকে নিয়ে জাতীয় পাটি থেকে কুমিল্লা -৬ (চান্দিনা) বর্তমানে কুমিল্লা -৭ আসনে সংসদ নির্বাচন করার প্রস্তাব ও দিয়ে ছিলেন।

কিন্তু সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। তিনি বলছিলেন আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক। আমার নির্বাচনী এলাকায় আওয়ামীলীগ প্রার্থী অধ্যাপক আলী আশ্রাফের পক্ষে নৌকা মার্কার কাজ করি। তার আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তার একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো একবার চান্দিনার উপজেলা নির্বাচনে তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হয়েছিলেন চান্দিনার সাবেক সাংসদ ড: রেদোয়ান আহমেদ। তিনি তাকেও বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। এই মহান নেতা জনাব মনিরুল হক গত ১৪ সেপ্টেম্বর /২০২০ইং তারিখে ডায়াবেটিস ও কিডনি সমস্যাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে না ফেরার দেশে চলে গেছেন। শারীরিক ভাবে তার মৃত্যু হলেও চান্দিনা ও কুমিল্লার প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে তিনি বেচে আছেন এবং বেচে থাকবেন তার কর্ম ও গুনের কারনে।

লেখক~সাংবাদিক ও কলামিস্ট। 

বিডিপ্রেস এজেন্সি/অনিকেত আহসান

আরও পড়ুন...