ওমিক্রনে যারা বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন

ফাইল ফটো।

বিডিপ্রেস এজেন্সি ডেস্ক : করোনায় নাস্তানাবুদ বিশ্ব। ফের বিশ্বজুড়ে চোখ রাঙাচ্ছে নতুন ধরন ওমিক্রন ও ডেলটা। এরইমধ্যে ওমিক্রন ও ডেলটার দাপটকে ‘সুনামি’ আখ্যা দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। বিশেষ করে ওমিক্রন ও ডেলটার দাপটে যুক্তরাষ্ট্র আর ইউরোপে নতুন নতুন রেকর্ড গড়ছে। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতও এক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই।

এখন কথা হচ্ছে ভয়ংকর এই ওমিক্রনে কারা বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন- পুরুষ নাকি নারী? এ প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।

রোববার (২ জানুয়ারি) দুপুরে কোভিড-১৯ পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের ভার্চুয়াল স্বাস্থ্য বুলেটিনে সংস্থাটির মুখপাত্র অধ্যাপক মো. রোবেদ আমিন বলেন, করোনার দক্ষিণ আফ্রিকান ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রনে পুরুষদের তুলনায় নারীরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। দক্ষিণ আফ্রিকাসহ বিশ্বের যেসব জায়গায় ওমিক্রন ছড়িয়ে পড়ছে, সেসব জায়গার চিত্র ও গবেষণায় এই তথ্য জানা গেছে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।

বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত ১০ জনের শরীরে ওমিক্রন শনাক্তের তথ্য পাওয়া গেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, একটা সময় আমরা বলেছিলাম পুরুষরা অনেক বেশি সংখ্যক আক্রান্ত হচ্ছেন। দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে যে তথ্য এসেছে তাতে ওমিক্রনে পুরুষের চেয়ে নারীর আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা বেশি। একইসঙ্গে তরুণদের আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা বেশি। এক সময় বলা হতো তরুণদের ইমিউনিটি বেশি তারা আক্রান্ত হবেন না। ওমিক্রন এসে সেই ধারণাকে ভুল প্রমাণিত করেছে। শিশুদেরও আমরা আক্রান্ত হতে দেখেছি দক্ষিণ আফ্রিকা ও ইউরোপে।

রোবেদ আমিন বলেন, আমাদের যে টিকাগুলো দেওয়া হচ্ছে সেটা কোনোটাই ওমিক্রন প্রতিরোধে শতভাগ কার্যকর না। যারা আগে দুই ডোজ ভ্যাকসিন নিয়েছেন, তাদের ক্ষেত্রে ভ্যাকসিনের অ্যান্টিবডির মাত্রা ধীরে ধীরে কমে যেতে পারে। বলা হচ্ছে, যারা কোভিড-১৯ এর দুটি ভ্যাকসিন নিয়েছেন তারা যেন বুস্টার ডোজ নেন। কারণ বুস্টার ডোজ নেওয়ার পরও দেখা যাচ্ছে অ্যান্টিবডির মাত্রা অনেক বেড়ে যায় যা ওমিক্রনের বিরুদ্ধে কার্যকর হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দেশে সংক্রমণ বাড়ছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, আমাদের এখানে বেশ কিছু টেস্ট হচ্ছে এবং টেস্টের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে ধীরে ধীরে। যেহেতু আমাদের কেসও বেড়ে যাচ্ছে। গত সপ্তাহে তার আগের সপ্তাহের তুলনায় ২০ শতাংশ টেস্ট বেশি করা হয়েছে। গত ৭ দিনে আমাদের মৃত্যুর সংখ্যাও বেড়ে গেছে। করোনা প্রতিরোধে সারাদেশে মাসব্যাপী ভ্যাকসিন ক্যাম্পেইন করার বিষয়ে ভাবা হচ্ছে।

এর আগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলেছিলেন, ওমিক্রন আক্রান্তদের স্বাদ এবং গন্ধের অনুভূতির কোনো বদল হয় না। সর্দিতে যদি নাক ভিজে যায় তবে ‘ওমিক্রন’ সংক্রমণের তেমন ভয় নেই। তবে শুকনো কাশি এবং স্বরভঙ্গ হলে অবশ্যই কোভিড পরীক্ষা করাতে হবে। কোভিড রিপোর্ট পজিটিভ হলে দেরি না করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে সরাসরি নমুনা জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ে পাঠানো হবে।

এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, সব ওমিক্রন আক্রান্তেরই গলা খুশখুশ করছে। দক্ষিণ আফ্রিকাভিত্তিক ডিসকভারি হেলথের প্রধান নির্বাহী রায়ান নোয়াক সম্প্রতি একটি ব্রিফিংয়ে বলেছিলেন, ডাক্তাররা করোনা আক্রান্তদের মধ্যে লক্ষণগুলো পরীক্ষা করে দেখেন। কিন্তু ওমিক্রন আক্রান্তদের লক্ষণ বাকিদের থেকে কিছুটা আলাদা।

গলা খুশখুশ ছাড়া কাশি, হালকা জ্বর, ক্লান্তি- এসবই হলো ওমিক্রনের প্রাথমিক লক্ষণ বলে জানাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। তবে সবার শরীরে যেসব লক্ষণ দেখা দেবে, এমনটা নয়। তবে রায়ান নোয়াক সতর্ক করে করে বলেছিলেন, উপসর্গ গুরুতর নয় বলে ওমিক্রনকে হাল্কাভাবে নেওয়া উচিত নয়।

প্রসঙ্গত, গত ২৪ নভেম্বর দক্ষিণ আফ্রিকায় এই ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত করা হয়। যুক্তরাজ্যের একটি গবেষণা অনুযায়ী, এই ভ্যারিয়েন্ট প্রতিরোধে বুস্টার ডোজ কার্যকর। কিন্তু বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এর বিরুদ্ধে গিয়ে জানিয়েছে, বুস্টার ডোজ মহামারিকে আরও বেশি ত্বরান্বিত করবে। এখন পর্যন্ত বিশ্বের ১০৬টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে করোনার ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন। বিশেষজ্ঞদের মতে, ওমিক্রন ডেল্টার তুলনায় কম ঝুঁকিপূর্ণ হলেও বেশিই সংক্রামক।

বিডিপ্রেস এজেন্সি/টিআই

আরও পড়ুন...