এমসি কলেজে গণধর্ষণ : ডিএনএ টেস্টে আসামিদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিলেছে

বিডিপ্রেস এজেন্সি ডেস্ক : সিলেট এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে তরুণী ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেপ্তার আসামিদের ডিএনএ নমুনার সাথে ঘটনাস্থলের ডিএনএ -এর নমুনার মিল পাওয়া গেছে। রোববার ডিএনএ প্রতিবেদন শাহপরাণ থানার পরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্যের হাতে পৌঁছেছে।ডিএনএ পরীক্ষা হয় মামলার প্রধান আসামি সাইফুর রহমান, অর্জুন লস্কর ও রবিউল ইসলাম, শাহ মাহবুবুর রহমান রনি, রাজন মিয়া, আইনুদ্দিন, মাহফুজুর রহমান ও তারিকুল ইসলামের।

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার এবিএম আশরাফ উল্লাহ তাহের আসামিদের ডিএনএ টেস্টের প্রতিবেদন পুলিশের কাছে হস্তান্তরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, আদালতে আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়া ছিল মামলার তদন্তের মূল অগ্রগতি। অভিযোগপত্র দাখিলে ডিএনএ টেস্টের অপেক্ষা ছিল। সম্প্রতি ডিএনএ টেস্টের প্রতিবেদন হাতে এসেছে। এখন যে কাজটি চলছে, সেটি হচ্ছে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিলের প্রস্তুতি।

গত ১ অক্টোবর ও ৩ অক্টোবর দুই দিনে এ মামলায় গ্রেপ্তার আট জনের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়। নমুনা সংগ্রহের পর পাঠানো হয় ঢাকায়। সেখান থেকে নমুনা পরীক্ষার প্রতিবেদন প্রথমে আদালতে পৌঁছায়। পরে এ প্রতিবেদন রোববার তদন্ত কর্মকর্তার হাতে আসে। আসামিদের সঙ্গে মিলেছে নমুনাও।

গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন ওই তরুণী। করোনার কারণে বন্ধ থাকা ছাত্রাবাসে স্বামীকে বেঁধে রেখে ওই তরুণীকে ধর্ষণ করা হয়। ওই রাতেই ধর্ষণের শিকার তরুণীর স্বামী বাদী হয়ে মহানগরের শাহপরাণ থানায় মামলা করেন। এ ঘটনার পর দেশজুড়ে ধর্ষণবিরোধী তীব্র আন্দোলন শুরু হয়। মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে ধর্ষণবিরোধী আইনও সংশোধন করে সরকার।

মামলা দায়েরের পর সিলেট বিভাগের বিভিন্ন স্থান থেকে এজাহারভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ। কোনো পদে না থাকলেও গ্রেপ্তার হওয়া সবাই এমসি কলেজ ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত বলে জানা গেছে।

গ্রেপ্তারের পর আটজন আসামিকে পর্যায়ক্রমে পাঁচ দিন করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। রিমান্ড শেষে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন তারা। জবানবন্দিতে প্রধান আসামি সাইফুর, তারেক, শাহ মাহবুবুর ও অর্জুন লস্কর ধর্ষণের কথা স্বীকার করেন। রবিউল ও মাহফুজুর ধর্ষণে সহায়তা করার কথা স্বীকার করেন। সন্দেহভাজন দুই আসামিও আদালতে জবানবন্দি দেন।

ধর্ষণের রাতে এমসি কলেজে ছাত্রাবাসে প্রধান আসামি সাইফুর রহমানের দখলে থাকা কক্ষে অভিযান চালিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে সাইফুরের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা করে।

শাহপরাণ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য গণমাধ্যমকে বলেন, মামলাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ থেকেও তদন্ত তদারকি করা হচ্ছে। এখানে সময়ক্ষেপণের কোনো সুযোগ নেই। তদন্তের সব কাজ শেষ। দ্রুততম সময়ের মধ্যেই আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে।

এদিকে, ধর্ষণের পর পুলিশ উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছিল ভুক্তভোগী তরুণীকে। সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসিতে তিন দিন চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে যান তিনি। শারীরিক ক্ষত সারলেও তিনি মানসিকভাবে পুরোপুরি সুস্থ হতে পারেননি বলে জানিয়েছেন ওই তরুণীর স্বামী।

বিডিপ্রেস এজেন্সি/টিআই

আরও পড়ুন...