উন্মাদ সব মাদকতায়, পিতা-মাতাই নেয় লাশ বহনের দায়

মাদকদ্রব্য সেবন। প্রতিকী ছবি। 

জিয়াউদ্দিন লিটন : মাদক আমাদের দেশে মহা সমস্যা বটে।মাদক আর মাদকাসক্ত মানুষ আমাদের সত্যি ভাবিয়ে তুলেছে। এদের কর্মকাণ্ডে আমরা, আমাদের সমাজ, আমাদের দেশ প্রতিনিয়তই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। যারা মাদক নিয়ন্ত্রণ করবেন তারাও যেন হাঁপিয়ে উঠেছে।মাদক এখন সহজলভ্য।জল ও স্থল সীমানায় কড়া নজরদারি।কিন্তু কিভাবে আসছে?এ প্রশ্ন সকল শ্রেণির মানুষের মনে। মাদক পাচার ও ব্যবসার প্রসার রোধ কল্পে রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক পর্যায়ে নানারকম কার্যক্রম দেখা গেলেও তেমন কোনো ইতিবাচক ফল মিলছে না।

প্রায় প্রতিদিনই ধরা পরছে মাদকের চালান। আটক করা হচ্ছে বহনকারীকে।কদিন জেল খেটে আবারো পুরনো সিন্ডিকেটে। এভাবে মাদক নিয়ন্ত্রন সম্ভব না। মাদকের মূলোৎপাটন করতে হলে গডফাদারদের ধরে আইনের আওতায় আনতে হবে। মাদক শুধু একজন ব্যক্তি একটি পরিবারের জন্যই অভিশাপ বয়ে আনে না দেশ জাতির জন্যও ভয়াবহ পরিণাম ডেকে আনছে। নানা রকম প্রাণঘাতী রোগ বিস্তারের পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি খারাপ করে তুলছে। দেশের অভ্যন্তরে মাদকের কেনাবেচার এবং বিভিন্ন সীমান্ত পথে দেশের অভ্যন্তরে মাদকের অনুপ্রবেশ নিয়ে অভিযোগ দীর্ঘদিনের। কেনাবেচার বিষয়টি বলতে গেলে ওপেন সিক্রেট। বিভিন্ন সময়ে পুলিশি অভিযানে মাদকদ্রব্য আটক ও জড়িতদের আটকের কথা শোনা গেলেও মাদক ব্যবসার নেপথ্যে থাকা গডফাদারদের আটক করা হয়েছে কিংবা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে এমন কথা শোনা যায় না।

মাদক উদ্ধারের চিত্র দেখলেই বিস্তারের একটা ধারণা পাওয়া যায়। যেগুলো উদ্ধার হচ্ছে সেগুলো তো কেবল যা তাদের চোখে পড়ছে। সব তো আর চোখে পড়ছে না। ঘরে ঘরে এখন ইয়াবা। যেটা ধরা পড়ে, সেটা খুবই সামান্য। বেশির ভাগই থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে। ফলে মাদকবিরোধী নানা অভিযানের কিছুদিন যেতে না যেতেই আবার নতুন করে মাদক ব্যবসার প্রসার ঘটে। মাদক ব্যবসায়ীদের প্রধান টার্গেট তরুণ সমাজ। মাদকের ভয়াবহ থাবায় বিপথগামী হচ্ছে তারা। মাদকের ছোবলে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে আমাদের আগামী প্রজন্ম একটি দেশের ভবিষ্যতের জন্য ভয়াবহ দুঃসংবাদ। সামাজিক নিরাপত্তাহীনতার প্রকট রূপের পেছনে মাদক অন্যতম বড় একটি উপসর্গ হয়ে দেখা দিয়েছে।

এর মত উদ্বেগজনক ঘটনা আর কি হতে পারে! মাদকের থাবায় ক্ষতবিক্ষত আমদের প্রজন্ম। শহর থেকে গ্রামাঞ্চল-সর্বত্রই নেশা এখন হাতের নাগালে। এক যুগে এর বিস্তার আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই সময়ে বিভিন্ন সংস্থা অন্তত ১৫ হাজার কোটি টাকার মাদকদ্রব্য উদ্ধার করেছে। তবে এই পরিমাণ দেশে ছড়িয়ে পড়া মোটের তুলনায় কোনোভাবেই ২০-২৫ শতাংশের বেশি নয় বলে মনে করছেন এ নিয়ে কাজ করা ব্যক্তি ও সংগঠনগুলো। তারা বলছেন, বর্তমানে সারা দেশে সেবনকারীরা প্রতিদিন গড়ে ২০ কোটি টাকার নেশা গ্রহণ করছে।

বছরের হিসাবে এর পেছনে খরচ হয় আনুমানিক ৭ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। এ ব্যবসায় জড়িত ২০০ গডফাদার ও বিক্রির নেটওয়ার্কে কাজ করে ১ লাখ ৬৫ হাজার জন। প্রতিবছরই বাড়ছে এই সংখ্যা। মাদকদ্রব্য লেনদেনের মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার হচ্ছে বিদেশে। নেশাজাতীয় দ্রব্যের বিস্তারের এই সর্বনাশা চিত্র যেভাবে আর্থিক ও শারীরিক ক্ষতি করছে, সেভাবে একটি প্রজন্মের চিন্তার জগতে বন্ধ্যত্ব সৃষ্টি করছে।

দীর্ঘ মেয়াদে এর ফল ভয়াবহ হবে বলে মত বিশেষজ্ঞদের। মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে জানতে পাঁচটি সংস্থার ১২ বছরের (২০০৯-২০২০) উদ্ধারকৃত মাদকের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করা হয়েছে। সংস্থাগুলো হলো-মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, পুলিশ, বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি), র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) ও বাংলাদেশ কোস্টগার্ড। এ পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া ২৫ ধরনের উল্লেখযোগ্য মাদকের মধ্যে এই পাঁচ সংস্থা সবচেয়ে বেশি উদ্ধার করে ৯ ধরনের মাদক। এগুলো হলো-ইয়াবা, হেরোইন, কোকেন, আফিম, গাঁজা, ফেনসিডিল, বিদেশি মদ, বিয়ার ও ইঞ্জেকটিং ড্রাগ।আজকাল মাদকে ছেয়ে গেছে আমাদের পুরো সমাজ। সরলতায় ভরা আমাদের স্বজন, বন্ধুদের পরিকল্পিত ভাবে পঙ্গু করে লাশ বানিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ঘুমপাড়ানি মাসি পিসি গাইতে গাইতে তাদের হাতে চলে আসছে নকল ও বিষাক্ত মদ।

নিষিদ্ধ ইয়াবা ফেনসিডিল সহ তাবৎ মাদকদ্রব্য। নেশায় বুঁদ হয়ে ঝিমোচ্ছে তারা আর আমরা গোপনে বেদনার জল ফেলছি। এদেশে মদ পানে দেশের সবচাইতে বড় প্রাণহানি হয় গাইবান্ধায়। পহেলা বৈশাখের প্রাক্কালে বিষাক্ত মদপানে ৭১ জনের প্রাণহানি হয় সেদিন। এরপর ২০০০ সালে মদপানে বগুড়ায় মৃত্যু হয় ২২ জনের আজ ২০২১ এসে আবারো বিষাক্ত মদপানে মৃত্যু হলো ১৮ জনের। যদিও দেশে এমন ঘটনা নতুন নয় তবুও বিষয়টি খুবই মর্মান্তিক।

ইতোপূর্বে কার বগুড়া ও নরসিংদীর ঘটনার পর নতুন করে এই ঘটনা আমাদেরকে আতঙ্কিত করেছে বৈকি। বিভিন্ন গণমাধ্যম থেকে জানা যায় যে, বিষাক্ত মদপানে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং একটি বিজ্ঞাপনী সংস্থার ৩ কর্মীসহ ঢাকা ও বগুড়ায় অন্তত ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর আগে ১ জানুয়ারি মদের বিষক্রিয়ায় অসুস্থ হয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয় অন্তত ২১ জন।

ভর্তি পরবর্তী চিকিৎসা চলাকালীন সময়ে দুই দিনে মৃত্যু হয় ৫ জনের। তার পরবর্তী দুই দিনে রাজশাহী মহানগর পুলিশ ভেজাল মদ তৈরি চকলেট চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করে। একই বছরে ২৭ আগস্ট রাজশাহীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রুপপুর পারমাণবিক কেন্দ্রে কর্মরত রাশিয়ার এক নাগরিকের মৃত্যু হয় বিষাক্ত মদ পানের কারণে। সারাদেশে এই ভেজাল ও বিষাক্ত মদ তৈরির কারিগররা সবার অলক্ষ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতিনিয়ত মানুষ বিষাক্ত মদ খেয়ে মারা গেলে তেমন কোনো খোঁজখবর করা হয়নি। এই ফাঁকে বেড়ে উঠেছে এই বিষবৃক্ষ যা দিনে দিনে মহীরুহ আকার ধারণ করেছে। অনেকেই বিষয়টিকে মেয়াদোত্তীর্ণ হোমিওপ্যাথির রেকটিফাইড স্পিরিট কে দায়ী করছে।

আসলে এ ঘটনায় আতঙ্কিত হবার বিষয় হলো মেয়াদোত্তীর্ণ রেকটিফাইড স্পিরিট এর নামে আসলে দেশে ভেজাল ও বিষাক্ত মদ তৈরি হচ্ছে কিনা? একটি গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যমতে ঢাকার ভাটারা এলাকায় ভেজাল মদ তৈরির চক্রের ৬ সদস্য গ্রেপ্তার করা হয়েছে এসময় কারখানা থেকে মাদক তৈরি প্লাস্টিক বোতল, কয়েক ড্রাম স্পিরিট, মিনারেল ওয়াটারের বোতল এবং সুগার সিরাপ জব্দ করা হয়েছে। একইভাবে বগুড়ার শেরপুর উপজেলাতেও শেরপুর থানা পুলিশ আবিষ্কার করেছে ভেজাল মদ তৈরির কারখানা।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য মতে মাদক কারবারি রাজধানীর মিটফোর্ড এলাকা থেকে ১০ হাজার টাকায় এক গ্যালন স্পিরিট কিনতেন। তারপর মিনারেল ওয়াটারের সঙ্গে স্পিরিট, চিনি, রং মিশিয়ে বিদেশী মদের পুরনো বোতলে ভরে সেগুলো বিক্রি করা হয়। নিশ্চয়ই এমন চক্র দেশে আরও রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাদক সেবন এবং বিক্রয় এর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও এই চক্রটি এত ভয়াবহ যে তাদের দৃষ্টি সীমা পার করে তাদের অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে।

এদের কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে ভেজাল ও বিষাক্ত মদ ভয়ঙ্কর রূপ নেবে। সারাদেশে ছড়িয়ে পড়বে বগুড়ার ভয়াবহতা।তাই অবৈধভাবে মদপান নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরী। মাদকে ছেয়ে গেছে পুরো সমাজ। দেশি-বিদেশি মদ ইয়াবা ফেনসিডিল গাজার বুদ হয়ে পড়ে আছে উঠতি বয়সের তরুণ-তরুণী সহ যুবসমাজ। এরই মধ্যে দেখা দিয়েছে নকল বা বিষাক্ত মদ এর ছড়াছড়ি। এই বিষাক্ত মদ খেয়ে গত কয়েক দিন সারাদেশে ২১ জনেরও বেশি মানুষ মারা গেছে। মদ্যপান নেতিবাচক পরিণতিতে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে।

ভেজাল মদ্যপানে বেশ কয়েকজনের মৃত্যুর খবর আসার পর তৎপর হয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। মদপানে যাদের মৃত্যু হয়েছে এবং যারা অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে রয়েছেন তাদের অধিকাংশের ময়নাতদন্ত রিপোর্ট মিথানল ক্রিয়ার উল্লেখ রয়েছে।মিথানল বা মিথাইল অ্যালকোহল সাধারণত একটি হালকা বর্ণহীন এবং উগ্র গন্ধ যুক্ত হয়। কাঠের বা প্লাস্টিকের কাজ বার্নিশ বারণ করা অথবা ছাপাখানার কাজ এরকম বহু ক্ষেত্রে মিথানল ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

বর্তমানে স্যানিটাইজার তৈরিতে ব্যবহৃত হচ্ছে এই মিথানল বাংলাদেশি মদের নামে স্পিরিট খেয়ে মৃত্যু হওয়ার খবর প্রায়ই গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। ভেজাল মদপানে মারা যাওয়া বা অসুস্থ হওয়ার ঘটনাগুলোর অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা গেছে ভেজাল মদ তৈরির ক্ষেত্রে মূল উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। বাংলাদেশের সব জায়গাতেই মদ সেবন এবং সব দোকানে মদ বিক্রির বিষয়ে বিধিনিষেধ আছে। সাধারণত সরকার অনুমোদিত কিছু ওয়্যার হাউজ লাইসেন্সকৃত পানশালা এবং বিভিন্ন হোটেল থেকে মদ কিনে থাকেন মানুষ।

শুধু মদ সেবন করায় লাইসেন্সধারী ব্যক্তিদের সব জায়গা থেকে মদ কিনতে পারবেন। সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল সূত্রে জানা যায় গত কয়েক সপ্তাহে মদ পান এরপর বিষক্রিয়ার উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেড়েছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান বলেন, মিথানল শরীরে প্রবেশ করালে ব্যক্তির হার্ট অ্যাটাক হতে, পারে স্নায়ুতন্ত্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে । এ দুই কারণেই মানুষের মৃত্যুও হতে পারে। সব মৃত্যুই বেদনার।

মদ্যপানে তরুন-তরুনীর মৃত্যু কিংবা শক্তি কোনোটাই কাম্য নয়। চলমান সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্টরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন বলে প্রত্যাশা । চোখ বন্ধ করে ঘুমিয়ে থেকে আমরা প্রত্যেকেই বহন করছি লাশ বহনের দায়। মাদকের ছোবল থেকে দেশের তরুণ ও যুব সমাজকে বাঁচাতে সমাজে নৈতিক মূল্যবোধ তৈরি ও মটিভেশনাল প্রোগ্রামসহ মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক সভার আয়োজন করতে হবে। তরুণ ও যুবসমাজের মনে মাদকের প্রতি ঘৃণা সৃষ্টি করতে হবে। ইসলামী জীবন যাপনের জন্য উদ্বুদ্ধ করতে হবে।

পারিবারিক ও সামাজিক সচেতনতা আরো বাড়াতে হবে। মাদকের আগ্রাসন প্রতিরোধে মাদক পাচারের সাথে সংশ্লিষ্ট ও ব্যবসায়ীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। মাদক পাচার রোধ ও মাদকের সহজপ্রাপ্যতা বন্ধ করতে হবে। আইন প্রয়োগের মাধ্যমে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি কার্যকর করতে হবে। দেশের অভ্যন্তরে মাদকের উৎপাদন এবং পার্শ্ববর্তী দেশের মাদক চোরাচালানের সব পথ বন্ধ করতে হবে। অভিভাবকদের তাদের সন্তানদের প্রতি যত্নশীল হতে হবে। শিক্ষার সর্বস্তরে ধর্মীয় শিক্ষা বাধ্যতামূলক করতে হবে।

কেবল রাষ্ট্রীয়ভাবে নয়, সামাজিক ও পারিবারিকভাবেও সচেতন হতে হবে। মাদকের বিরুদ্ধে পরিবার থেকে রাষ্ট্র পর্যায় পর্যন্ত সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে।  মাদকের হাত থেকে তরুণদের মুক্ত করা সমাজের দায়িত্ব। আর এজন্য যথাযথ পদক্ষেপের বিকল্প নেই। আমাদের সবাইকে নৈতিক ও সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেই মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করতে হবে।

মুক্ত করতে হবে দেশের যুবসমাজকে মাদকাসক্তি শুধু ব্যক্তির শারীরিক অবস্থারই অবনতি ঘটায় না বরং একটি সমাজের প্রচলিত মূল্যবোধ, নীতি-নৈতিকতা, সংস্কৃতি ও সভ্যতাকেও ঠেলে দিচ্ছে অন্ধকার ভবিষ্যতের দিকে। তাই আমাদের উচিত মাদকবিরোধী তীব্র আন্দোলনে সোচ্চার হওয়ার মধ্য দিয়ে যুবসমাজকে মাদকের হাত থেকে রক্ষা করা। নয়ত মাদকের ভয়ঙ্কর থাবায় ধ্বংস হবে আমাদের সমাজব্যবস্থা সর্বোপরি রাষ্ট্রব্যবস্থা।

লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট। 

বিডিপ্রেস এজেন্সি/এমএসআই

আরও পড়ুন...