উদ্বোধনের আড়াই বছর পর চালু হলো বিজয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

মুহাম্মদ মুহসিন আলী,বিডিপ্রেস এজেন্সি,ব্রাক্ষণবাড়িয়া : প্রধাণমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রায় আড়াই বছর আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের পর থেকে পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্য সেবা কার্যক্রম চালু হবে প্রত্যাশী ছিলেন উপজেলাবাসী। অবশেষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সম্মতিতে চালু হল ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ৫০ শয্যার আধুনিক অবকাঠামোর এই হাসপাতাল

এখন থেকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আগত রোগীরা ২৪ ঘন্টার জরুরি ও অন্তঃবিভাগ এর পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্য সেবা পাবে। ৫০ শয্যার উপজেলা হাসপাতালে পর্যায়ক্রমে অপারেশন এর সকল সেবা চালু করা হবে।

২ রা মে রবিবার সকাল ১১.৩০ টায় বিজয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী ২৪ ঘন্টা স্বাস্থ্য সেবা ও অন্তঃবিভাগ সেবা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী এমপি। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, সিভিল সার্জন ডঃ একরাম উল্লাহ, পুলিশ সুপার মো. আনিসুর রহমান, বিজয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে.এম. ইয়াসির আরাফাত, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোহাম্মদ মাসুম, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিগণ ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। উদ্বোধন শেষে অতিথি বৃন্দ হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ পরিদর্শন করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিজয়নগর উপজেলার চম্পকনগর ইউপি তে আখাউড়া-চান্দুরা সড়কের পাশে ৩ একর জায়গায় ২০১৬ সালের ১৯ জানুয়ারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নির্মাণ কাজ শুরু হয়ে ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে শেষ হয়। এরপর ২০১৮ সালের ১লা নভেম্বর ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির উদ্বোধন করেন।

চারতলা বিশিষ্ট আধুনিক অবকাঠামোর এই হাসপাতালটিতে শিশু ওয়ার্ড, মহিলা ও পুরুষ ওয়ার্ডসহ কেবিন এবং অস্ত্রোপচার কক্ষও রয়েছে। আগত রোগীদের সেবা প্রদানে রয়েছে অত্যাধুনিক প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও জনবল। হাসপাতালটিতে চিকিৎসকদের জন্য রয়েছে আবাসিক কোয়ার্টার।

গত বছর কোভিড-১৯ এর প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়ায় কার্যত অলস পড়ে থাকায় ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের নির্দেশনায় জেলার প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন সেন্টার হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

উদ্বোধনের দুই বছর পর ২০২০ সালের নভেম্বর মাসে একটি এক্স-রে মেশিন, একটি অস্ত্রোপচার টেবিল ও একটি লাইট এবং দুইটি ডেলিভারী টেবিল স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে সরবরাহ করা হয়। কিন্তু জনবলের অভাবে এক্স-রে মেশিনটি এতদিন এক্স-রে কক্ষে বসানো হয়নি। এছাড়া সার্জন না থাকায় অস্ত্রোপচার টেবিল-লাইটও কোনো কাজে লাগানো হয়নি।

৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হওয়ায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। হাসপাতালটির সকল সেবা কার্যক্রম চালু করে তাদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ দূর করায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সরকারকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

বিডিপ্রেস এজেন্সি/ইবতিশাম পুলক

আরও পড়ুন...