আমার জীবন হোক রাসুলের কদমে কুরবান…

প্রতিকী ছবি। 

আমরীন মেহবুবা সুলতানা : আসসালাতু আসসালামু আলাইকুম ইয়া রাসুল আল্লাহ। আসসালাতু আসসালামু আলাইকুম ইয়া হাবিব আল্লাহ। ইয়া রাসুল আল্লাহ, স্বয়ং সৃষ্টিকর্তা আপনাকে সর্বোচ্চ সম্মানে সম্মানিত করেছেন এবং শ্রেষ্ঠ মানুষ হিসেবে দুনিয়ায় প্রেরণ করেছেন। দুনিয়ার বুকে আপনি রাহমাতুল্লিল আলামিন হিসেবে আগমন করেছেন। আপনার উম্মতের অংশ হওয়ার চেয়ে উত্তম উপহার আর কোন কিছু হতে পারে না। ইয়া রাসুল আল্লাহ আপনার ভালোবাসার কাছে যে আমাদের ভালোবাসা তুচ্ছ। কারণ আপনি শত জুলুম অত্যাচার সহ্য করেও আমাদের পরিত্যাগ করেন নি। চৌদ্দশ বছরেরও বেশি সময় আগে আপনার করা দোয়ার বরকতে আজও আমরা বিভিন্ন ধরনের বালা মুসিবত থেকে রক্ষা পাচ্ছি।

তবুও আপনাকে কিভাবে না ভালোবাসি ইয়া রাসূল আল্লাহ। আপনার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য এতটাই সুন্দর ছিল যে সকল ধর্মের মানুষ আপনাকে সমানভাবে বিশ্বাস করতো। আপনি যদি দুনিয়ার বুকে রাহমাতুল্লিল আলামিন হিসেবে আগমন না করতেন, তাহলে এই দুনিয়া থেকে রহমত উঠে যেত এবং দুনিয়ার অধিকাংশ মানুষই জাহান্নামে যেত। শুধুমাত্র আল্লাহ পাকের প্রিয় বান্দারা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারতেন। তখন, ঐ মধুর কন্ঠে ইয়া উম্মাতি ইয়া উম্মাতি বলে কেউ আমাদের ডাকতেন না। আল্লাহ পাকের কাছে ফরিয়াদ করতেন না আমাদের মুক্তির জন্য। দুনিয়াতে বহু নবী রাসুল এসেছেন। সকলেই মহান আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য ইবাদত করেছেন এবং দোয়া করেছেন। কিন্তু শুধুমাত্র আপনি আমাদের মুক্তির জন্য দোয়া করেছেন।

ইয়া রাসুল আল্লাহ আপনার নিষ্পাপ হাসি তো কোটি টাকার বিলাসী পণ্যের চেয়েও অধিক সুন্দর । এত কষ্ট সহ্য করার পরও কোনো মানুষের মুখে এত সুন্দর নিষ্পাপ হাসি থাকাটা তো কেবল আপনার দ্বারাই সম্ভব ইয়া রাসুল আল্লাহ। আপনার জন্য নারী সমাজ আজ এত সম্মানিত। কারণ মধ্যযুগেও মেয়ে শিশুকে জীবন্ত কবর দেওয়া হতো। যদি এই প্রথা এখনো চালু থাকত তাহলে আমি দুনিয়ার আলো দেখার আগেই অন্ধকার কবরের বাসিন্দা হয়ে যেতাম। স্বয়ং আল্লাহ পাক যেখানে আপনাকে ভালোবাসেন সেখানে আমি অতি নগন্য একজন মানুষ হয়ে আপনাকে ভালোবাসতে পারাও যে আমার জন্য সৌভাগ্যের বিষয়। যারা আপনার বিরোধিতা করতো আপনার উপর নানা ধরনের জুলুম অত্যাচারের লিপ্ত হতো তারাও আপনার মহান চরিত্র দেখে অবাক হয়েছে বহুবার। শত্রুরাও আপনাকে এতটাই বিশ্বাস করতো যে নিজের ধন সম্পদ আমানত হিসেবে রাখার জন্য আপনাকে বেছে নিয়েছিল। অনেক অল্প কিছুতেই আপনি মহান আল্লাহ তায়ালার শুকরিয়া আদায় করতেন।

আপনি এত সাধারণ জীবন-যাপন করার পরও আল্লাহপাকের প্রতি আপনার কৃতজ্ঞতা এবং ভালোবাসা সবকিছুর ঊর্ধ্বে ছিল। এইজন্য আপনাকে না ভালবেসে মহান আল্লাহ পাকের সন্তুষ্টি অর্জন করা কখনই সম্ভব নয়। ইয়া রাসুল আল্লাহ শুধুমাত্র আপনার উম্মতের অংশ হওয়ার ফলে আমরা গুনাগার হওয়ার শর্তেও মহান আল্লাহ পাকের কঠোর শাস্তির সম্মুখীন হতে হয় নি। আবার কিয়ামতের দিন আপনার শাফায়াত ব্যতীত আমাদের মুক্তি পাওয়া অসম্ভব। তারপরেও কি আপনাকে না ভালোবাসা যায় ইয়া রাসূল আল্লাহ? দুনিয়ার মানুষ আপনাকে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। কিন্তু ভিন্ন ধর্মের মানুষকে কখনো চিন্তা করেন না যে সবচেয়ে সুন্দর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন, সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষের প্রচারিত বা পরিচালিত পথটি কখনো মিথ্যা বা অসত্য হতে পারেনা। প্রকৃতপক্ষে শ্রেষ্ঠ ধর্মের শিক্ষাই আপনাকে শ্রেষ্ঠ মানবে পরিণত করেছেন। প্রতিটি ধর্মের মানুষকে আমি অনুরোধ করি আপনার জীবনী পড়ে দেখার জন্য আপনার দেখানো পথ থেকে যদি শিক্ষা নিয়ে নিজের জীবনের একটা অভ্যাসও বদলাতে পারে তাহলে তার পুরো জীবনটাই বদলে যাবে।

ইয়া রাসুল আল্লাহ আপনার অবমাননা বা অসম্মান কিভাবে সহ্য করবো, যেখানে আপনি আমাকে আপনার উম্মতের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। আখিরাতের দিন আমি আপনার সামনে কিভাবে দাঁড়াবো, কারণ আপনার সামনে দাঁড়ানোর মত যোগ্যতা যে আমার নেই। কিন্তু যদি নিজের জীবনটা দিতে পারতাম। তাহলে সেইদিন আমি আপনার বলতে পারতাম ইয়া রাসুল আল্লাহ আপনার জন্য আমি তেমন কিছুই করতে পারেনি, কিন্তু আপনাকে ভালোবেসে নিজের সবচেয়ে প্রিয় জিনিসটাকে কুরবান করে দিয়েছি। দুনিয়াতে কিছু মানুষ যখন আপনাকে অবমাননা অসম্মান করেছে, এই অসম্মানের প্রতিবাদে আপনাকে ভালোবেসে লাখো মানুষ রাজপথে নেমেছে। পথে বসে থাকা ভিক্ষুক যার কিছুই নেই সে নিজের থালা ফেলে রেখে গেছে সে ও আজ সবার সাথে গলা মিলিয়ে বলছে, ” বিশ্বনবীর অপমান মানি না, মানবো না।

” যে মানুষটার দুটো পা নেই সেই মানুষটাও স্ট্রেচারে ভর করে পথে নেমেছে এই প্রতিবাদে সামিল হওয়ার জন্য। আপনার প্রতি মানুষগুলোর ভালোবাসা দেখে উপলব্ধি করতে পারলাম, যে আমি তাদের চেয়েও অধম। কারণ এই মানুষগুলো হয়তো জীবনে তেমন কিছুই পায়নি কিন্তু তারা আপনাকে ভালবাসতে পেরেছে। আর আমার সবকিছু থাকার শর্তেও এখনো আমি আপনার অবমাননার প্রতিবাদে রাজপথে নামতে পারিনি। আমারও খুব ইচ্ছা হয় রাজপথে নামতে ভাইদের সাথে গলা মিলিয়ে প্রতিবাদে সামিল হতে। যখন আমার ভাইদের কণ্ঠস্বর শুনতে পারতাম তখন বারান্দায় ছুটে যেতাম তাদের সাথে গলা মিলিয়ে বলতাম। ইয়া রাসূল আল্লাহ আমি কিছু শুকনা খাবার এবং পানি রেখেছি। আবার, যখন আমার ভাইরা রাজপথে প্রতিবাদে নামবে আমি কিছু খাবার, পানি দিয়ে হলেও তাদের সাথে প্রতিবাদে সামিল হতে চাই।

ইয়া রাসূল আল্লাহ আমি আপনাকে ভালোবাসি কিছু পাওয়ার আশায় না, আপনার উম্মতের অংশ হতে পেরে আমি আপনাকে ভালোবাসি। বহু বছর আগে বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম লিখেছিলেন, ” রাসূলের অপমানে যদি না কাঁদে তোর মন, মুসলিম নয় মুনাফিক তুই রাসুলের দুশমন।”আমি আপনার উম্মতের অংশ হওয়া সত্ত্বেও আপনার প্রতি অবমাননা কি সহ্য করা যায় ইয়া রাসুল আল্লাহ। আপনার প্রতি অবমাননার প্রতিবাদ করে শুধু জেলে না, যদি জাহান্নামেও যেতে হয় তবুও আমি রাজি আছি। তবুও হাজারবার আমি বলবো, ” নূর নবীজির অপমান মানি না, মানবোও না।” যদি আমার মৃত্যুও হয় তবু আমার মনে কোন কষ্ট থাকবে না। কারণ আখিরাতের দিন যখন আপনার সাথে সাক্ষাতের সুযোগ হবে, তখন আমি বলতে পারবো, ইয়া রাসুল আল্লাহ আপনাকে আমি নিজের জীবনের চেয়েও বেশি ভালোবাসি।

লেখক : এইচএসসি পরীক্ষার্থী,শিক্ষাবর্ষ (২০১৯-২০২০)।

বিডিপ্রেস এজেন্সি/আশিক ইমরান

আরও পড়ুন...