আজ খুশির ঈদ

বিডিপ্রেস এজেন্সি : ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ।

তুই আপনাকে আজ বিলিয়ে দে-শোন আসমানী তাগিদ

তোর সোনাদানা বালাখানা সব রাহে লিল্লাহ

দে যাকাত, মুর্দা মুসলিমের আজ ভাঙাইতে নিঁদ।’

জাতীয় কবি নজরুল ইসলামের সূরে কণ্ঠ মিলিয়ে বছর ঘুরে মুসলিম উম্মাহর দুয়ারে আবারও হাজির হয়েছে পবিত্র ঈদুল ফিতর।

ঈদ মানে আনন্দ, ঈদ মানে খুশি। মুসলমানদের সবচেয়ে বড় খুশির দিন। করোনাভাইরাসের মধ্যে রাত পোহালেই ঈদের আনন্দ উৎসবে মেতে উঠবে সারাদেশ।

কবির ভাষায় ঈদের আনন্দ আজ সকলের মাঝে পড়ুক ছড়িয়ে। হিংসা বিদ্বেষ ভেদাভেদ ভুলে জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে মিলিত হই ঈদের এই সীমাহিন আনন্দ উৎসবে।

ঈদ সবার জীবনেই কম-বেশি আনন্দের উপলক্ষ এনে দেয়। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে এবার ঈদ উদযাপন করতে হবে শারিরীক দূরত্ব বজায় রেখে সরকারের কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে। মাস্ক পড়েই ঈদ জামাত ও আনন্দ উৎসবে শামিল হতে হবে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের।

করোনা সংক্রমণের কারণে গতবারের মতো এবারও যে যেখানে আছেন সেখানেই ঈদ করতে হচ্ছে। করোনা ঠেকাতে ঈদের ছুটি থাকলেও কর্মস্থল ছেড়ে যেতে পারছেন না সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। ইচ্ছা থাকলেও সরকারি আদেশের কারণে এবার অনেকেই স্ত্রী পরিবার পরিজনের সঙ্গে ঈদ করতে পারছেন না। এত কড়াকড়ির পরও বিভিন্ন পেশার মানুষ নাড়ির টানে ছুটে যাচ্ছেন বাড়িঘরে।

প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদ করতে ইতিমধ্যে বাড়িঘরে পৌঁছে গেছেন দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষ। তবে ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সেবা প্রদানকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা নিজ নিজ কর্মস্থলেই দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সহকর্মীদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করবেন।

করোনার কারণে এবারও খোলা জায়গায় ঈদ জামাত হচ্ছে না। স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করে মসজিদে জামাত অনুষ্ঠিত হবে। নামাজ আদায়ে মুসল্লিদেরও নানা শর্ত আরোপ করা হয়েছে।

বুধবার সন্ধ্যাকাশে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। এ কারণে এবার বৃহস্পতিবার রমজানের রোজা ত্রিশটি পূর্ণ হয়। ফলে শুক্রবার সারাদেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে। এর মধ্য দিয়ে ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়েছে ঈদ আনন্দ উদযাপনের বার্তা।

একদিন আগে বৃহস্পতিবার মধ্যপ্রাচ্যে সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়েছে। সৌদি আরবে সঙ্গে বাংলাদেশের বেশকিছু জেলায় ঈদ উদযাপন করেছেন মুসল্লিরা। তারা দেশটির সঙ্গে মিলিয়ে একদিন আগে রোজাও রাখেন।

ঈদুল ফিতর বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় ও জাতীয় উৎসব। দিনটি মুসলমানদের জন্য বরকতময়ও। এই ঈদের প্রবক্তক হচ্ছেন মানবতার মুক্তির দূত হযরত মোহাম্মদ (সা.) হিজরি দ্বিতীয় সন থেকে মুসলমানেরা ঈদুল ফিতর উদযাপন করে আসছেন।

হাদিসে আছে মহানবী (সা.) বলেছেন, প্রত্যেক জাতিরই উৎসবের দিন আছে। আর আমাদের উৎসব হলো ঈদ।’

ঈদের দিন সকালে ঘুম থেকে উঠে মুসলিম ধর্মাবলম্বীরা গোসল শেষে পবিত্র হয়ে মিষ্টিমুখ করে সুন্দর, পরিচ্ছন্ন পোশাক পড়ে ঈদের জামাতে শরিক হন। জামাতের আগেই আদায় করেন সাদাকাতুল ফিতর। পরিচিত অপরিচিত, ধনী গরিব একইসঙ্গে একই কাতারে দাঁড়িয়ে ঈদের জামাত আদায় করবেন। করোনার কারণে এবার কোলাকুলি, হাত মেলানো থেকে বিরত থেকে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা।

এরপর সময়-সুযোগ করে আত্মীয়-বন্ধুদের বাড়িতে যাওয়ার ব্যাপার তো রয়েছেই। ঈদে উপহার ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের মাধ্যমে পরস্পর মিলনমেলার এক আবহ তৈরি হয়। এ সময় ধনী-গরিব ব্যবধান থাকে না। ঈদুল ফিতর ধনী গরিব ভেদাভেদ ভুলে একে অপরকে আপন করে নেবে। দাঁড় করাবে সবাইকে এক কাতারে। এই আনন্দ অনুভূতির কোনো শেষ নেই।

ঈদুল ফিতর এর মধ্যে ফিতর শব্দের এক অর্থ ভঙ্গ করা। ঈদুল ফিতরের অর্থ রোজার সমাপ্তি ঘটানোর আনন্দ। অর্থাৎ দীর্ঘ এক মাস তারাবির নামাজ, সাহরি, ইফতার, জাকাত-ফিতরা এবাদত বন্দেগীসহ সিয়াম সাধনার মধ্যদিয়ে পার করার পর মুসলিম উম্মাহ রোজা ভঙ্গ করে মহান আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে বান্দার জন্য উপহার স্বরূপ এই ঈদুল ফিতর। এই আনন্দ কর্মশেষে সাফল্যের আনন্দ। ঈদের আনন্দ সর্বজনীন আর তাই এই আনন্দ প্রাপ্তির আনন্দ। এই আনন্দ আল্লাহর তাকওয়া অর্জনের সাফল্যের আনন্দ। আর এই আনন্দ রূপ নেয় সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় উৎসবে। ঈদুল ফিতর পরিণত হয়েছে সার্বজনীন উৎসবে।

এক মাস টানা সিয়াম সাধনা ঈদের অনাবিল আনন্দ বয়ে আনে এক অপার্থিব অনুভূতি। এ আনন্দ পরকালীন জীবনের জন্য শান্তি ও মুক্তি লাভের এক অনন্য আধ্যাত্মিক অনুভূতির তাই রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের রমজান শেষে শাওয়ালের নতুন চাঁদ দেখামাত্রই খুশির জোয়ার বয়ে যায় প্রতিটি রোজাদারের দেহ মনে। এই আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে ধনী-গরিব, ছোট-বড় সবার মধ্যে। প্রতিটি প্রাণে দোলা দেয় ঈদ আনন্দ।

করোনার সংক্রমণ পরিস্থিতির মধ্যেই বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় দেশব্যাপী ঈদ উদযাপনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ঈদ উপলক্ষে জাতীয় পতাকা ও ঈদ মোবারক খচিত ব্যানার দিয়ে সজ্জিত করা হচ্ছে রাজধানীর প্রধান প্রধান সড়ক, মোড়সহ গুরত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলো।

উন্নতমানের খাবার সরবরাহ করা হবে বিভিন্ন হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশুসদন, ভবঘুরে কেন্দ্র ও এতিমখানায়। সরকারি-বেসরকারি টিভি চ্যানেল ও রেডিওতে প্রচারিত হবে বিশেষ অনুষ্ঠান। টিভি চ্যানেলগুলো ইতোমধ্যে পাঁচ থেকে সাত দিনের বিশেষ অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করেছে।

অনলাইন দৈনিকসহ জাতীয় সংবাদপত্রগুলো প্রকাশ করেছে ঈদ উপলক্ষে বিশেষ সংখ্যা, ঈদ ম্যাগাজিন। করোনার কারণে এবারও জাতীয় ঈদগাহে পরিবর্তে বায়তুল মোকাররমসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মসজিদে ঈদ জামাতের জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ অ্যাডভোকেট, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ, বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া, বিরোধীদলীয় উপনেতা ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের প্রমুখ দেশবাসী ও মুসলিম উম্মাহর সুখ শান্তি সমৃদ্ধি কামনা করে সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

বিডিপ্রেস এজেন্সি/টিআই

আরও পড়ুন...